খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে পলাতক থাকা সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘদিন ছদ্মনামে আত্মগোপনে থাকা এই আসামিকে অবশেষে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম আমাদের প্রতিনিধি কে বলেন
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিবির বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকেই এই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিয়া হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন কৌশলে আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর রাতেই আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া মেনে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী ও উগ্র সেনা কর্মকর্তার হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে নিহত হন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর তৎকালীন সামরিক ও বেসামরিক আইনে মামলা দায়ের করা হলে একটি বিশেষ সামরিক আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেই বিচারে বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আটক হওয়া মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন ওই মামলার অন্যতম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও রায় ঘোষণার পর থেকেই পলাতক ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই মামলার অনেক পলাতক আসামির খোঁজ মিলছিল না। ডিবি পুলিশ জানায়, মোজাফফর হোসেনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর তারা বেশ কিছুদিন ধরে তার ওপর নজরদারি রাখছিলেন। তিনি কীভাবে এতদিন নিজের পরিচয় গোপন রেখে বনানীর মতো সুরক্ষিত এলাকায় বসবাস করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই গ্রেপ্তারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার আটকের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসের অন্যতম একটি বড় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের পর এখন তার বিরুদ্ধে পূর্বের আদালতের রায় অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য