বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল অঙ্গনে বইছে পরিবর্তনের নতুন হাওয়া। বিশেষ করে আসন্ন বাংলাদেশ ফুটবল লিগের দ্বিতীয় পর্বকে সামনে রেখে দলবদলের বাজারে চমক দেখিয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়ন। সত্তর দশকের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে দেশের ফুটবলে আবারও পাকিস্তানি ফুটবলারদের আধিপত্য দেখা যেতে চলেছে। পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব দুজন পাকিস্তানি খেলোয়াড় নিশ্চিত করার পরপরই ব্রাদার্স ইউনিয়ন একযোগে পাকিস্তান জাতীয় দলের পাঁচজন ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েছে।
সত্তর দশকের পর নতুন অধ্যায়
বাংলাদেশের ফুটবলে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের পদচারণা অনেক পুরোনো হলেও আশির দশকের পর তা স্থবির হয়ে পড়েছিল। সবশেষ ১৯৭৭ সালে মোহামেডানের জার্সিতে কালা গফুর, ফজল ও আশিকদের মতো তারকাদের খেলতে দেখা গিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের নীরবতা ভেঙে ২০২৬ সালের ঘরোয়া লিগে আবারও সাতজন পাকিস্তানি ফুটবলারকে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে।
ব্রাদার্সে যোগ দেওয়া পাকিস্তানি পাঁচ তারকা
গত ৩১ জানুয়ারি শেষ হওয়া মধ্যবর্তী দলবদলে ব্রাদার্স ইউনিয়ন যাদের চুক্তিবদ্ধ করেছে, তাঁরা সবাই পাকিস্তান জাতীয় দলের বর্তমান বা সাবেক সদস্য। নিচে তাঁদের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| খেলোয়াড়ের নাম | পজিশন | আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা |
| উমর হায়াত | ডিফেন্ডার | ২২টি ম্যাচ |
| আলমগীর গাজী | মিডফিল্ডার | ১৮টি ম্যাচ |
| শায়েক দোস্ত | উইঙ্গার | ১৬টি ম্যাচ |
| আবদুল্লাহ শাহ | ডিফেন্ডার | ৭টি ম্যাচ |
| হায়ান খাট্টাক | ফরোয়ার্ড | ১টি ম্যাচ |
কেন এই ‘পাকিস্তান প্রীতি’?
ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমের খান এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধানত দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, বাজেট সীমাবদ্ধতা। বাংলাদেশের জাতীয় দলের শীর্ষসারির খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যেই বড় ক্লাবগুলোর সাথে চুক্তিবদ্ধ এবং তাঁদের পারিশ্রমিক অনেক বেশি। সেই তুলনায় একই মানের পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক অনেক সাশ্রয়ী। দ্বিতীয়ত, সমন্বয়। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় না নিয়ে একই দেশের এবং একই জাতীয় দলে খেলা পাঁচজনকে নেওয়ায় তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দলগত রসায়ন (টিম কেমিস্ট্রি) ভালো হবে বলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ মনে করছে।
সার্ক কোটা ও দলের শক্তিমত্তা
ফুটবল ফেডারেশনের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সার্কভুক্ত দেশগুলোর খেলোয়াড়রা বিদেশি কোটায় অন্তর্ভুক্ত হন না। ফলে ব্রাদার্স ইউনিয়ন কৌশলে তাঁদের স্কোয়াডে বিদেশি শক্তির আধিক্য ঘটিয়েছে। এই পাঁচ পাকিস্তানি ছাড়াও দলে রয়েছেন গিনির তিনজন, নাইজেরিয়ার একজন এবং সেনেগালের একজন ডিফেন্ডার। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় পর্বে ব্রাদার্স কার্যত ১০ জন বিদেশি মানের খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামবে, যা লিগের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
পিডব্লিউডি ও লিগের ভবিষ্যৎ
ব্রাদার্সের পাশাপাশি নবাগত পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাবও পাকিস্তানের দুজন দক্ষ খেলোয়াড়কে দলে নিয়েছে। তারা পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের গোলকিপার উসমান আলী এবং জাতীয় দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার আলী উজাইর মাহমুদকে নিশ্চিত করেছে।
১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর লিগের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সূচি ঘোষণা করলেই এই পাকিস্তানি তারকারা ঢাকায় এসে নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দেবেন। ফুটবল প্রেমীরা আশা করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার এই ফুটবলারদের আগমনে ঘরোয়া লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং গ্যালারিতে ফিরবে হারানো উন্মাদনা।



