গ্যাস সংকটে থমকে শিল্প, ঝুঁকিতে লাখো শ্রমিকের চাকরি

গ্যাসের তীব্র সংকট দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থাকে ক্রমেই অচল করে তুলছে। নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, ময়মনসিংহের ভালুকা ও গাজীপুরের শ্রীপুরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কমে গেছে যে, বহু কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ উৎপাদন হচ্ছে, আবার কোথাও উৎপাদন কমেছে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ। অনেক কারখানায় মেশিন চালু রাখার মতো গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোতে এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে শ্রমিকদের ওপর। কোথাও শ্রমিকেরা কারখানায় এসে কাজ না করে বসে থাকছেন, কোথাও তাঁদের ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে। আবার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় কিছু কারখানায় শ্রমিকদের বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, সংকট দ্রুত স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন ও রপ্তানির পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এক মাস ধরে গ্যাস সরবরাহে অস্থিরতা

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের একটি ভাসমান টার্মিনালে দুর্ঘটনা ও কারিগরি সমস্যার পর প্রায় এক মাস ধরে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মাঝখানে সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফিরলেও তা স্থায়ী হয়নি। সামিট পরিচালিত টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। পরে আবার সরবরাহ কমে যায়। সর্বশেষ কার্গো সংকটের কারণে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিল্পাঞ্চলে নতুন করে সংকট দেখা দেয়।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়েও এই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকে। সংকটের সময় তা আরও নেমে যাওয়ায় শিল্প, বিদ্যুৎ, সার, সিএনজি ও আবাসিক খাতের মধ্যে সীমিত গ্যাস বণ্টন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ একপর্যায়ে ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়। পরে তা ২৪৪ কোটি ঘনফুটে উঠলেও আবার প্রায় ২১৮ কোটি ঘনফুটে নেমেছে।

সরকারকে তাই সীমিত গ্যাসের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হচ্ছে। সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে শিল্পকারখানায় গ্যাস কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে শিল্পে গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়ছে এবং রপ্তানি আদেশ সময়মতো পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছে।

নরসিংদীতে শিল্পের চাকা প্রায় থেমে গেছে

নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল সংকটের ভয়াবহতার একটি বড় উদাহরণ। সদর, মাধবদী, চৌয়ালা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাসনির্ভর শত শত কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে কিংবা বন্ধ রেখেছে। স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের হিসাবে, জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে চার হাজারের বেশি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার টেক্সটাইল, ডাইং, সাইজিং, স্পিনিং ও তৈরি পোশাক খাতের। প্রায় ৪০০টি কারখানা সরাসরি গ্যাসনির্ভর।

উদ্যোক্তাদের হিসাবে, সাম্প্রতিক সংকটে নরসিংদীতে প্রতিদিন কয়েকশ কোটি টাকার উৎপাদন ক্ষতি হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমেছে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। কোথাও তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ শতাংশে।

কিছু কারখানা উৎপাদন চালু রাখতে কাঠ পুড়িয়ে বয়লার চালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। একটি কারখানায় শুধু কাঠের পেছনেই প্রতিদিন ১০ হাজার টাকার বেশি অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।

চৌয়ালা শিল্প এলাকার মোমিন টেক্সটাইল মিলের ১০টি ইউনিটের মধ্যে সাতটি গ্যাস সংকটে বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ২৫ লাখ গজ কাপড় উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে কয়েক হাজার গজে। প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিকের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

আশুলিয়ায় উৎপাদন কমেছে ৭৫ শতাংশ

সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। কাঠগড়া-আমতলা এলাকার একটি পোশাক কারখানা কয়েক সপ্তাহ কম সক্ষমতায় চলার পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ হাজার পিস হলেও গ্যাস সংকটের পর বাইরে থেকে গ্যাস এনে সর্বোচ্চ ২০ হাজার পিস পর্যন্ত উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। ৮০ থেকে ৯০টি মেশিনের মধ্যে প্রায় ২৪টি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

কারখানাটির স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য প্রায় ১০ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। সেখানে চাপ শূন্য থেকে ২ দশমিক ৫ পিএসআইয়ের মধ্যে ওঠানামা করছে। কখনও সামান্য চাপ পাওয়া গেলেও তা দিয়ে নিয়মিত উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাইরে থেকে গ্যাস এনে উৎপাদন চালাতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

আশুলিয়ার আরেকটি টেক্সটাইল কারখানা প্রায় ১৫ দিন ধরে বন্ধ। উদ্যোক্তার হিসাবে, এতে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। অন্য একটি ডাইং কারখানার দৈনিক ৯০ টন উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে দুই টনও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারখানাটিতে প্রায় ৯৭৫ শ্রমিক কর্মরত। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও তাঁদের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জে ডাইং-ফিনিশিং কার্যত অচল

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বিসিক শিল্প এলাকাতেও গ্যাসের চাপ কমে ডাইং, ফিনিশিং ও টেক্সটাইল কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কোথাও গ্যাসের চাপ এক থেকে দেড় পিএসআইয়ের মধ্যে নেমে এসেছে। স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় বড় মেশিনগুলো চালু করা যাচ্ছে না।

কারখানাগুলোতে উৎপাদনের বদলে পড়ে আছে কাপড়ের স্তূপ। কোথাও শ্রমিকেরা হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কোথাও আবার কারখানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজ করিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের হিসাবে, নারায়ণগঞ্জের অন্তত ১৫২টি কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে একটি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

ডাইং ও ফিনিশিং খাতের এই অচলাবস্থার প্রভাব সরাসরি তৈরি পোশাক শিল্পে পড়ছে। কারণ সময়মতো কাপড় সরবরাহ না হলে পোশাক কারখানাগুলোও নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শেষ করতে পারছে না।

গাজীপুরে সক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ উৎপাদন

গাজীপুরের মাওনা এলাকার একটি সিরামিক কারখানায় গ্যাস সংকটে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ২৫ শতাংশে। দৈনিক ২২ হাজার পিস তৈজসপত্র উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ছয় হাজার পিস। কম গ্যাসের চাপের কারণে উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানোর প্রয়োজন হয় এমন পণ্য উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে কিছু ক্রয়াদেশ স্থগিত হয়েছে।

উৎপাদন কমে গেলে শুধু তাৎক্ষণিক আয় কমে না, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সময়সীমা মেনে পণ্য দিতে না পারলে ক্রেতারা বিকল্প উৎসের দিকে যেতে পারেন। এতে ভবিষ্যৎ ক্রয়াদেশও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সরবরাহব্যবস্থায়

গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব তৈরি পোশাক কারখানার চেয়ে সুতা, কাপড়, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানায় বেশি পড়ছে। এসব শিল্পে বয়লার, বাষ্প ও বিভিন্ন তাপভিত্তিক উৎপাদন প্রক্রিয়া চালাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস প্রয়োজন। ফলে সরবরাহব্যবস্থার শুরুতেই সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব পরবর্তী ধাপগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।

একটি পোশাক কারখানা সীমিত গ্যাস বা বিকল্প জ্বালানি দিয়ে কোনওভাবে উৎপাদন চালিয়ে নিতে পারলেও ডাইং, ফিনিশিং কিংবা কাপড় তৈরির মতো শিল্পে একইভাবে বিকল্প ব্যবস্থা করা কঠিন। সুতা বা কাপড়ের জোগান কমে গেলে পোশাক কারখানায় কাঁচামালের ঘাটতি তৈরি হয়।

ইতোমধ্যে সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পেরে কিছু উদ্যোক্তাকে অতিরিক্ত খরচ করে আকাশপথে পণ্য পাঠানোর চেষ্টা করতে হচ্ছে। কোথাও আবার ক্রেতাকে মূল্যছাড় দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয়ের পাশাপাশি রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও চাপ তৈরি হচ্ছে।

কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সংকট দীর্ঘ হলে সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে পারে শ্রমবাজারে। উৎপাদন বন্ধ থাকলে দীর্ঘ সময় শ্রমিকদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। উৎপাদন কমলে শিফট কমানো, কর্মীদের ছুটিতে পাঠানো এবং শেষ পর্যন্ত জনবল কমানোর মতো সিদ্ধান্তের দিকে যেতে পারেন উদ্যোক্তারা। নরসিংদীর একটি কারখানায় ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিকের মধ্যে দেড় হাজার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আশুলিয়ার একটি স্পিনিং মিলে পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে অন্তত ৩০ শতাংশ জনবল কমানোর আশঙ্কা জানিয়েছেন উদ্যোক্তা।

এই প্রভাব কারখানার সীমানায় আটকে থাকারও কথা নয়। শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের আয় কমলে পরিবহন, খাবারের দোকান, বাসাভাড়া, স্থানীয় বাজার ও ছোট ব্যবসাগুলোতেও তার প্রভাব পড়বে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও চাপ বাড়াতে পারে।

বিকল্প জ্বালানিতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়

বর্তমানে উদ্যোক্তাদের একসঙ্গে তিন ধরনের চাপ সামলাতে হচ্ছে। উৎপাদন কমে আয় কমছে, অথচ শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় চালু রয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

কেউ কাঠ পুড়িয়ে বয়লার চালাচ্ছেন, কেউ বাইরে থেকে গ্যাস কিনছেন, আবার কেউ ডিজেলচালিত যন্ত্র ব্যবহার করছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ইচ্ছামতো বাড়ানোর সুযোগ নেই। ফলে বাড়তি ব্যয়ের বড় অংশ উদ্যোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চললে কারখানাগুলোর আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ সমস্যাও বাড়ছে

গ্যাসের ঘাটতির আরেকটি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি বড় অংশ গ্যাসনির্ভর হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে শিল্পকারখানাকে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ে।

ফলে গ্যাস সংকট ও বিদ্যুৎ সংকট একে অপরকে আরও তীব্র করে তুলছে। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে কিছু শিল্পোদ্যোক্তার ডিজেল ব্যবহারের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যের কারখানাগুলোতেও বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি সংকটের পেছনে পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র

সাম্প্রতিক সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এলএনজি টার্মিনালের সমস্যা হলেও দেশের গ্যাস সংকটের ভিত্তি আরও দীর্ঘমেয়াদি। পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র ও কূপ থেকে পর্যাপ্ত উৎপাদন যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে দেশীয় ঘাটতি পূরণে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্যাস সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জোগান দেয়। তাই কোনও টার্মিনালে কারিগরি সমস্যা বা কার্গো সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব দ্রুত দেশের সামগ্রিক গ্যাস ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই ঝুঁকিই স্পষ্ট করেছে।

প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা

শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রধান দাবি, শুধু গ্যাসের পরিমাণ বাড়ানো নয়, সরবরাহকে পূর্বানুমানযোগ্য করতে হবে। ২৪ ঘণ্টা গ্যাস দেওয়া সম্ভব না হলেও কখন, কতক্ষণ এবং কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে—এ বিষয়ে আগাম সময়সূচি থাকলে কারখানাগুলো উৎপাদন পরিকল্পনা করতে পারবে।

স্বল্পমেয়াদে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল দ্রুত সচল করা জরুরি। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নতুন কূপ খনন এবং পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাব্য অতিরিক্ত উৎপাদন কাজে লাগানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনার বিষয়টিও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ রয়েছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য শুধু সরবরাহ বাড়ালেই হবে না। শিল্পে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ানো, যেখানে সম্ভব বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুতের মতো বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়ানো এবং অবৈধ সংযোগ ও অপচয় বন্ধ করাও জরুরি।

বর্তমান সংকট তাই কেবল জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং স্থানীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সাময়িক উৎপাদন সংকট ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি শিল্পঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।

Tags :

ratul Khaborwala

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।