ঢাকার ধামরাইয়ে একটি ব্যাটারি উৎপাদনকারী কারখানায় ঢুকে চীনা এক কর্মকর্তাকে রশি দিয়ে বেঁধে নগদ প্রায় ৭০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বেলিশ্বর এলাকায় ‘জিয়াংশু স্টোরেজ ব্যাটারি বিডি কোং লি.’ নামের কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।
কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির ইনচার্জ ও ক্যাশিয়ার চীনা নাগরিক লি পেংগুই নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান। এর কিছুক্ষণ পর রাত সোয়া ১২টার দিকে অন্তত তিনজনের একটি দল কারখানার পেছনের দিক দিয়ে প্রবেশ করে। তারা টয়লেটের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দলটির সদস্যদের মুখে মাস্ক ছিল বলেও জানিয়েছেন কারখানার কর্মকর্তারা।
কারখানার পেছনের অংশে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে ওই অংশ দিয়ে দুর্বৃত্তদের প্রবেশের কোনো ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনাটি তদন্তে অন্যান্য আলামত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে ঢোকার পর ওই ব্যক্তিরা লি পেংগুইয়ের কক্ষে যায়। সেখানে তাঁর গলায় ছুরি ধরে লকারের চাবি দিতে বলা হয়। পরে তাঁর হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। চাবি নেওয়ার পর লকার খুলে সেখানে রাখা নগদ ৭০ লাখ টাকা নিয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি।
ভুক্তভোগী লি পেংগুইয়ের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা কক্ষে ঢুকেই তাঁর গলায় ছুরি ধরে চাবি চায়। তিনি চাবি দেওয়ার পর তারা লকার থেকে টাকা নিয়ে যায়। ঘটনার সময় তাঁর হাত-পা বাঁধা ছিল এবং হামলাকারীদের মুখে মাস্ক ছিল বলে তিনি জানান।
কারখানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লুট হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। তবে এ অর্থ লুটের বিষয়টি বর্তমানে কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও লুট হওয়া টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, কারখানা কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কীভাবে তারা কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করল এবং লুটের পর কোন পথে পালিয়েছে—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনার পর কারখানাটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পেছনের অংশে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় দুর্বৃত্তরা সেখান দিয়ে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র ও জড়িতদের পরিচয় বের করার চেষ্টা করছে।


