চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানায় ২০০৫ সালের এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালত আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগর ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের একত্রে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
আসামিদের নাম ও রায়
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নয়জন আসামি হলেন:
- রেজাউল করিম
- জয়নাল আবেদীন
- আবদুল্লাহ
- মো. সেলিম
- আবুল কাশেম
- সালাউদ্দিন
- মো. সোলায়মান
- রেজাউল করিম রেজা
- হারুন অর রশিদ
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে বন্দর থানার হালিশহর ছোটপুল এলাকার সমবায় সিঙ্গাপুর মার্কেটের পাশে নূর আলম ওরফে বাবলুকে অপহরণ করা হয়। নিহত ব্যক্তি পুলিশের সোর্স (তথ্যদাতা) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অপহরণের পরপরই তার মা আয়শা আক্তার লাকী বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তী দিন পুলিশ নিহত বাবলুর মরদেহ উদ্ধার করে। মামলার তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে দেয়।
মামলার তদন্ত ও অভিযোগপত্র
পুলিশের তদন্তের পরে ২০০৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ৯ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ের বিবরণ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মামলা দায়ের স্থান | বন্দর থানা, চট্টগ্রাম |
| নিহত | নূর আলম ওরফে বাবলু |
| মামলার দায়েরকারী | আয়শা আক্তার লাকী (মৃতকের মা) |
| রায় ঘোষণার তারিখ | ৩১ মার্চ ২০২৬ |
| রায়দাতা | চট্টগ্রাম মহানগর ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস |
| আসামির সংখ্যা | ৯ জন |
| সাজা | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড + ২০,০০০ টাকা জরিমানা + অনাদায়ে ৬ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড |
আদালতের মন্তব্য
আদালতের অফিস সহকারী মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, “সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হলো। এটি একটি ন্যায়ের প্রতীক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।”
এ ঘটনার ফলে স্থানীয় মানুষ এবং পুলিশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আজকের রায় মৃত্যুর বিচার কার্যকর করার পাশাপাশি সমাজে আইনের শাসনের প্রতি বিশ্বাস জাগিয়েছে।



