খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীতে একটি কিডনি রোগ ও ইউরোলজি চিকিৎসা কেন্দ্রে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি মঈন উদ্দিনসহ তিনজনকে তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় এর আগে গ্রেফতার হওয়া আরও কয়েকজন আসামিকেও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—মঈন উদ্দিন, এমবি স্বপন কাজী এবং মো. শাওন হোসেন।
| আসামির নাম | অবস্থান | রিমান্ড |
|---|---|---|
| মঈন উদ্দিন | প্রধান আসামি | ৩ দিন |
| এমবি স্বপন কাজী | সহ-আসামি | ৩ দিন |
| মো. শাওন হোসেন | সহ-আসামি | ৩ দিন |
মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার একটি কিডনি রোগ ও ইউরোলজি চিকিৎসা কেন্দ্রে চাঁদা দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। চিকিৎসা কেন্দ্রটির অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ বাদী হয়ে গত ১১ এপ্রিল শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয় এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কেন্দ্রটির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বাদীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিতে থাকে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে তারা বাদীর বাসার সামনে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে এবং তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে চাঁদার টাকা আদায়ের চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন অভিযুক্তরা একত্রিত হয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক লোক জড়ো করে চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এতে চিকিৎসা কেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে এর আগেই আদালত চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল। নতুন করে গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে মামলার তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি চক্রের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো, তাদের অর্থনৈতিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।