চাঁদাবাজের ভয়ে যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধ কাজ স্থগিত

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকের দহ ইউনিয়নের যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও ভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে শুরু হওয়া বাঁধ নির্মাণ কাজ চাঁদাবাজদের হুমকির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের সঙ্গে সৃষ্ট বন্যা থেকে অগণিত মানুষের জীবন ও সম্পদ বিপন্ন হতে পারে। নদী তীররক্ষা কাজ বন্ধ হওয়ায় কয়েক হাজার বাড়িঘর, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, কবরস্থান এবং চারশ বিঘা আবাদি জমি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি মোল্লা ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রমিক ও ঠিকাদাররা চাঁদাবাজদের ভয় দেখিয়ে কাজ বন্ধ রাখে। স্থানীয় চাঁদাবাজরা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবী করায় প্রকল্প পরিচালনা কার্যক্রম স্তিমিত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও তীর সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এলাকার মানুষের জীবন ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মাদারগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী এনামুল হক জানান, “চরপাকের দহ ইউনিয়নের পাকরুল গ্রামে ৫০ মিটার অংশে তীররক্ষা ও ভাঙন প্রতিরোধের জন্য ৪৮ লাখ টাকা দরে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কাজটি মোল্লা ট্রেডার্সকে দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার ও শ্রমিকদের ভয় দেখিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত কারণের বিস্তারিত জানি না। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সঠিক হবে।”

মোল্লা ট্রেডার্সের সৈকত হাসান জানান, “সাইট বুঝিয়ে দেওয়ার পরও চাঁদাবাজদের ভয় দেখিয়ে কাজ করা সম্ভব হয়নি। কাজ না করা আমার ব্যক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি এলাকার ক্ষতি ঘটাচ্ছে। চাঁদাবাজদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ড বা ঠিকাদাররা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আমি বিষয়টি প্রথম শুনলাম। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেব।”

নিচের সারণিতে বন্ধ তীররক্ষা কাজের তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয় বিবরণ
কাজের স্থান চরপাকের দহ ইউনিয়ন, পাকরুল গ্রাম, মাদারগঞ্জ
কাজের ধরন যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও ভাঙন প্রতিরোধ, জিও বস্তা স্থাপন
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোল্লা ট্রেডার্স, টাঙ্গাইল জেলা
কাজের প্রারম্ভ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কাজ বন্ধ হওয়ার তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বন্ধ হওয়ার কারণ চাঁদাবাজদের হুমকি ও চাঁদার দাবী
বর্ষা মৌসুমের ঝুঁকি নদী ভাঙন, বন্যা, ফসল ও সম্পদের ক্ষতি
স্থানীয় প্রভাব কয়েক হাজার বাড়িঘর, চারশ বিঘা জমি, স্কুল, মসজিদ, আশ্রায়ণ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক বিপন্ন

উল্লেখ্য, চার বছর ধরে এই এলাকায় ক্রমাগত নদী ভাঙনের কারণে হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়েছেন এবং সমগ্র অঞ্চলের কৃষিজমি ও বসতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানিসম্পদ উন্নয়ন বোর্ড গত কয়েক বছর ধরে তীর সংরক্ষণে কাজ চালিয়ে আসলেও চাঁদাবাজদের হুমকি এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা সতর্ক করেছেন, অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় মানবিক ও আর্থিক ক্ষতি আরও ব্যাপক আকার নেবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।