চাঁদা দাবি করা সেই বিএনপি নেতা থাইল্যান্ড পালানোর সময় আটক

চাঁদা না দিলে কারখানা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিদাতা সেই বিএনপি নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাইল্যান্ড যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ‘তাঁর (রিয়াদ) বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি একটি অডিও ভাইরাল হওয়ায় সে আটক হওয়ার ভয়ে থাইল্যান্ডে পালিয়ে যাচ্ছিল। আজ সকালে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। সে এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এখনো মামলা হয়নি। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।’

এদিকে চাঁদা দাবির অভিযোগের জেরে তাঁকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রিয়াদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা অঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রিয়াদকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য রিয়াদকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে রিয়াদকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অডিও ফোনালাপের রেকর্ড ফাঁসসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি দলের ঊর্ধ্বে নয়। তার মতো কেউ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, রিয়াদের চাঁদা দাবি ও হুমকির কথোপকথনের একটি অডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অডিও অনুযায়ী, আজাদ হোসেন নামের এক কারখানামালিকের কাছে চাঁদা চেয়েছেন রিয়াদ। চাঁদা না দিয়ে কারখানা খোলায় সেটি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, কারখানার মালিকের উদ্দেশে রিয়াদ বলছেন, ‘আপনি ফ্যাক্টরি খুলছেন কেন? ফ্যাক্টরিতে আগুন ধরিয়ে দেব। আপনি শেখ হাসিনার কী হন? গুণ্ডামি করলেন কয়দিন ধরে। আমি ওই সময় শুধু রানার জন্য আগুন ধরাতে দিই নাই। ফতুল্লায় কত ফ্যাক্টরিতে আগুন ধরছে আপনারা তো দেখছেন। আপনি ফ্যাক্টরি খুললেন কেন?’ উত্তরে কারখানার মালিক আজাদ বলেন, ‘বাবা, কী করতে হবে বইল। তুমি যেভাবে বলবে সেভাবে করব। আমি কি তোমার কথার বাইরে গেছি বল?’

তখন রিয়াদ বলেন, ‘আপনি টাকা তো কবরে নিয়ে যাবেন। আপনেরে টাকাসহ কবরে দিয়ে দেব। আপনি এখন ফতুল্লা আসেন। আপনি এখন আসবেন নাকি ফ্যাক্টরিতে আগুন ধরিয়ে দেব?’ জবাবে আজাদ বলেন, ‘আচ্ছা আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব।’

রিয়াদ প্রশ্ন করেন, ‘আপনি আমাকে বলেন কখন সাক্ষাৎ করবেন। কখন কবে দেখা করবেন, সেটা বলেন। কালকে রাতে যদি আগুন ফ্যাক্টরি পুড়ে ফেলে তখন বসে থাকতে পারতেন? দুই-চারটা বাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আগে আগুন ধরায় নাই? ধরছে কি না বলেন? সেলিম ওসমানের ফ্যাক্টরিতে আগুন ধরছে। আর আপনি তো শামীম ওসমানের ছোট ভাই। আপনি আওয়ামী লীগার মানে আপনি তো বড় আওয়ামী লীগার। আপনি গুন্ডা পালেন মিয়া। আজকে বুধবার, আপনি কী বারে দেখা করবেন? এরপর সামনের বুধবার পর্যন্ত দেখব, তারপর কী করতে হয় করব।’ তখন আজাদ অনুনয় করে বলেন, ‘তুমি আমার বাপ লাগো। আমি তোমার ওপর নির্ভর করে আছি। তুমি বাবা একটু হেল্প কর।’

খবরওয়ালা/এন

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।