চিকিৎসক দীপ্রা তাবাসসুমের মৃত্যু ও প্রাসঙ্গিক পারিপার্শ্বিকতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসক দীপ্রা তাবাসসুমের দুঃখজনক মৃত্যুর খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর তা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, সন্তান জন্মদানের পর নারীদের শরীরে যে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে, তার ফলে দীপ্রা ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ বা সন্তান জন্মদান-পরবর্তী বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন এবং এর জন্য চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই মানসিক সংকটের মধ্যেই তিনি পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দীপ্রা তাবাসসুমের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি তাঁর প্রতি অমানবিক আচরণ করতেন এবং কোনো ধরনের সহযোগিতা করতেন না। উল্লেখ্য, দীপ্রার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা উচ্চশিক্ষিত এবং পেশাজীবী। তাঁর স্বামী একজন চিকিৎসক, শ্বশুরও চিকিৎসক এবং শাশুড়ি একজন প্যাথলজিস্ট। উচ্চশিক্ষিত এবং এলিট শ্রেণির পরিবার হওয়া সত্ত্বেও দীপ্রা তাবাসসুম সেখানে কোনো প্রকার মানবিক মর্যাদা পাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, দীপ্রার নিজের পরিবারও সংকটের সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়াতে পারেনি। তাঁর মা স্কিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত এবং বাবা ও ভাইয়ের পক্ষ থেকেও তিনি কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাননি।

ঘটনার পর দীপ্রা তাবাসসুমের সমস্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় (ডিজেবল) করা হয়েছে এবং তাঁর দেওয়া বেশ কিছু পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, এর পেছনে আত্মহত্যার প্ররোচনা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে মূলধারার গণমাধ্যমে যেন এই সংবাদটি প্রচারিত না হয়, সে লক্ষ্যে একটি প্রভাবশালী মহলের তৎপরতার কথাও জানা গেছে।

দীপ্রা তাবাসসুমের স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিচয় এবং তাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক অবস্থান নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:

ব্যক্তি / পক্ষ পেশা বা সামাজিক পরিচয় দীপ্রা তাবাসসুমের সাথে সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য
সিয়াম চিকিৎসক স্বামী / পার্টনার দীপ্রার প্রতি নির্যাতনকারী হিসেবে অভিযুক্ত।
শ্বশুর চিকিৎসক শ্বশুর দীপ্রার প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ।
শাশুড়ি প্যাথলজিস্ট শাশুড়ি দীপ্রার প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ।
শাবনাজ রশিদ দিয়া মেটা (Meta) বিষয়ক সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষক ননদ (স্বামীর বড় বোন) ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পূর্ব থেকেই বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন।
সিমু নাসের ‘ইয়ার্কি’ (earki)-র সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব ননদাই (ননদের স্বামী) কার্টুন ও গ্রাফিতির মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার এবং প্রাণীপ্রেমী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে।
দীপ্রার মা গৃহিণী / অপ্রকাশিত মাতা স্কিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত।
দীপ্রার বাবা ও ভাই অপ্রকাশিত পিতা ও ভ্রাতা সংকটের সময়ে দীপ্রাকে কোনো সহযোগিতা করেননি।

নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করা অভিজ্ঞ মহলের মতে, নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষা, উচ্চবিত্ত বা নিম্নবিত্ত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মতো বিষয়গুলো সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে না। অনেক উচ্চশিক্ষিত পরিবারেও নারীরা চরম বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হন। এই ঘটনায় ভিক্টিমের পরিবার যদি আইনিভাবে আপোস করে ফেলে, তবে বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে এই ধরনের অপরাধী পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করার বিষয়ে জনমত গড়ে উঠছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।