খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়েও বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং সেখানে পরিবেশিত পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরার পারফরম্যান্স। ভক্তদের একটি বড় অংশের দাবি, উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করা শিল্পী আসলে প্রকৃত শাকিরা ছিলেন না; বরং তাঁর পরিবর্তে কোনো ‘বডি ডাবল’, ক্লোন বা রূপধারী (ইমপার্সনেটর) মঞ্চ মাতfieldিয়েছেন।
এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ (এগিয়ে চলো)-এ নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয়ের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান পপ তারকা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাকিরার অবয়ব ও পোশাক পরিচ্ছদই মূলত এই রহস্যের জন্ম দিয়েছে। মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ও বাহ্যিক রূপের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিবরণ |
| পোশাক | উজ্জ্বল হলুদ রঙের পোশাক এবং সাদা শর্টস। |
| পাদুকা | প্ল্যাটফর্ম স্নিকার্স। |
| চুলের রঙ ও স্টাইল | চিরচেনা সোনালি (ব্লন্ড) চুলের পরিবর্তে হালকা স্ট্রবেরি রেড কালার। |
| আনুষঙ্গিক উপাদান | চোখে ছিল বিশাল আকারের কালো সানগ্লাস, যা মুখাবয়বকে আড়াল করে রেখেছিল। |
এই আকস্মিক রূপবদল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শাকিরার চোখের চাউনি ও শারীরিক ভাষার (বডি ল্যাঙ্গুয়েজ) সঙ্গে মঞ্চের পারফরমারের অমিল খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন অনেক অনুরাগী। স্প্যানিশ ও ইংরেজি ভাষায় ভক্তরা মন্তব্য করেছেন যে, এটি শাকিরার ক্লোন বা বডি ডাবল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঝড়-ঝাপটার পর এই বৈশ্বিক মঞ্চের পারফরম্যান্সটি শাকিরার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। সাবেক স্প্যানিশ ফুটবলার জেরার্ড পিকের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের তিক্ত বিচ্ছেদের পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো বৃহৎ আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক পরিবেশনা। ‘দাই দাই’ গানের লিরিক্সেও সেই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার এবং ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা স্পষ্ট। গানের একটি বিশেষ লাইনে বলা হয়েছে:
“যা তোমাকে একবার ভেঙেছে, তা-ই তোমাকে শক্তিশালী করেছে।”
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাকিরা তাঁর জীবনের এই রূপান্তর ও মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি নিজেকে যতটা ভঙ্গুর বা দুর্বল ভাবতেন, জীবন তাঁকে তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী হিসেবে প্রমাণ করেছে। জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতা, এমনকি আঘাত দিয়ে চলে যাওয়া মানুষদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, এই কঠিন পরিস্থিতিগুলোই মানুষকে আরও উন্নত ও পরিপক্ব হিসেবে গড়ে তোলে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এই পরিবেশনাটি তাই শুধু একটি গান নয়, বরং তাঁর জীবনের ক্ষত কাটিয়ে নতুনভাবে জেগে ওঠার এক অনন্য বার্তা।