খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে জমি ও আধিপত্যের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে রাজিব শেখ (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনায় ব্যাপক লুটপাট ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনা বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামে সংঘটিত হয়। নিহত রাজিব শেখ ওই গ্রামের ফারুক শেখের ছেলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে হামলাকারীরা একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে অন্তত ১০টি বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে তাদের যথেষ্ট সময় লেগেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ চালালে প্রথম দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চিংগড়িয়া গ্রামের সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপ ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলমের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর আগে ২৮ জানুয়ারি লিচুতলা এলাকায় সংঘর্ষে সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপের নিজাম উদ্দিন নিহত হন। সেই ঘটনার জের ধরে সর্বশেষ এই সংঘর্ষে রাজিব শেখ প্রাণ হারান।
ঘটনার পর বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এবং একজন নিহত হয়েছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।”
| বিষয় | বিবরণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| নিহত | রাজিব শেখ, ২০ | ফারুক শেখের ছেলে |
| আহত | অন্তত ১৫ জন | দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় আহত |
| অগ্নিসংযোগ | ১০টি বসতবাড়ি | হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে আগুন ধরিয়েছে |
| পূর্বঘটনা | ২৮ জানুয়ারি লিচুতলা সংঘর্ষ | সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপের নিজাম উদ্দিন নিহত |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী | পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিতলমারীর এই ধরনের সংঘাত দীর্ঘদিনের জমি ও আধিপত্য বিরোধের ফল। স্থানীয় ক্ষমতাধারী ও প্রভাবশালী গ্রুপগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রায়শই সহিংস আকার ধারণ করে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, দ্রুত পুনরায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনও ইতিমধ্যেই এলাকার পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং পুনরায় সংঘাত এড়াতে নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থা করেছে।
এই সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চিতলমারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয়রা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনবে।
এই প্রতিবেদনে সংঘর্ষের কারণ, সময়কাল, নিহত ও আহতের সংখ্যা, অগ্নিসংযোগ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এটি স্থানীয় ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনার পূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করছে।