খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২০ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চিরকুট রেখে নিখোঁজ হন স্থায়ী টেইলার্স ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান (৪৫)। পরে তার লাশ পাওয়া গেছে পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া রেলওয়ে ট্র্যাকের ৯ নম্বর ব্রিজ এলাকায়।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর থেকে নিখোঁজ থাকা জিয়াউর রহমানের মরদেহ সন্ধ্যা ৬টার দিকে ট্রেনে কাটা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
জিয়াউর রহমান ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের উত্তর সারুটিয়া ওয়াবদা এলাকার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভাঙ্গুড়া বাজারে সেঞ্চুরি টেইলার্স নামে একটি টেইলারিং ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালেই তিনি দোকানে যান। দুপুরে তার ছোট ছেলে মো. ইজাজ হোসেন খাবার নিয়ে দোকানে গেলে বাবাকে পাননি। আশেপাশে খোঁজ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে দোকানের টেবিলে ভাঁজ করা একটি কাগজে চোখ যায়। সেটি একটি চিরকুট, যেখানে লেখা ছিল—‘দোকান-সংসার চালাইতে পারলাম না, তাই দুনিয়া ত্যাগ করিলাম। কেউ দায়ী নয়’। নিচে তার নাম ও ১৯/১১/২০২৫ তারিখ উল্লেখ ছিল।
চিরকুট পাওয়ার পর পরিবার ও স্বজনরা চারদিকে খোঁজ করলেও কোনো তথ্য পাননি। এতে এলাকায় উদ্বেগ, আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
মরদেহের পরিচিত একজন ব্যবসায়ী জানান, জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে দুর্বল ছিলেন। টেইলারিং কাজ করতে সময় বেশি লাগত। তার ছোট ছেলে প্রায়ই তাকে বকাঝকা ও মারধর করত বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি আরও ভেঙে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজের প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে মাঝপাড়া রেলওয়ে ব্রিজ এলাকায় ট্রেনে কাটা অবস্থায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে পুলিশ ও পরিবার গিয়ে লাশটি জিয়াউর রহমানের হিসেবে শনাক্ত করে।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি বলেন, জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন মানসিক অসুস্থ ছিলেন। এর আগে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন আটঘরিয়া থেকে তার লাশ পাওয়া যায়।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি রেলপথ-সংক্রান্ত হওয়ায় লাশের তত্ত্বাবধান সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে থানার ওসি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন