দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ২৪টি সক্রিয় বনাঞ্চলের আগুন জ্বলছে। এই ভয়াবহ আগুনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি জানান, আগুনের বিস্তার রোধে সরকার সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে, যাতে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
এর আগে দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী লুইস কোরদেরো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। এই দুটি অঞ্চল রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এবং দাবানলের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব এখানেই দেখা গেছে। পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে রোববারই প্রেসিডেন্ট বোরিক এসব অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সরাসরি যুক্ত হয়েছে। সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বায়োবিও অঞ্চলের পেনকো ও লিরকেন শহর থেকে। এই দুই শহরে মোট প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস, যাদের বড় একটি অংশ নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছে।
চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলভারো এলিসালদে সতর্ক করে বলেন, আগামী কয়েক দিনে আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিস্থিতি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও শুষ্ক বাতাস দাবানলের বিস্তার বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা একটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি।”
সরকারি হিসাবে, এখন পর্যন্ত বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে প্রায় ৮৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে গেছে। এতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে অন্তত ২৫০টি ঘরবাড়ি, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমি, বনাঞ্চল ও অবকাঠামো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘস্থায়ী খরা ও তাপপ্রবাহ এই ধরনের দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
নিচের সারণিতে দাবানল পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সক্রিয় দাবানলের সংখ্যা | ২৪টি |
| মোট মৃত্যু | কমপক্ষে ১৯ জন |
| বাস্তুচ্যুত মানুষ | ৫০,০০০-এর বেশি |
| সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল | বায়োবিও, নুবলে |
| পুড়ে যাওয়া এলাকা | প্রায় ৮৫ বর্গকিলোমিটার |
| সম্পূর্ণ ধ্বংস ঘরবাড়ি | অন্তত ২৫০টি |
| জরুরি ব্যবস্থা | জরুরি অবস্থা, রাতের কারফিউ |
চিলির এই ভয়াবহ দাবানল শুধু তাৎক্ষণিক মানবিক সংকটই নয়, বরং ভবিষ্যতে পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।