খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনের বীমা খাতে ব্যবসা ও গ্রাহক সেবার পরিধি দুটোই বেশ ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে যে, বছরের প্রথম তিন মাসে দেশের বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রিমিয়াম থেকে অর্জিত আয় যেমন বেড়েছে, ঠিক তেমনি গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের হারও সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধের পরিমাণ বাড়লেও চীনের বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বা ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য (সলভেন্সি) সে দেশের কঠোর আইনি চাহিদার চেয়ে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) চীনের সামগ্রিক বীমা খাত থেকে মোট ৩ ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২.৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ান) প্রাথমিক বীমা প্রিমিয়াম অর্জিত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.২% বেশি। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে নতুন বীমা পলিসি গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অভূতপূর্ব সাড়া।
আলোচ্য প্রান্তিকে নতুন ইস্যু করা বীমা পলিসির সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ২৯% বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ২১০ কোটিতে (৩২.১ বিলিয়ন) পৌঁছেছে। বিপুল সংখ্যক নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ার ফলে প্রিমিয়ামের অংক যেমন বড় হয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এই খাত আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
গ্রাহকদের আস্থার প্রতিদান দিতে গিয়ে চীনের বীমা কোম্পানিগুলোও দাবি পরিশোধে বেশ তৎপরতা দেখিয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে বীমা দাবি ও ম্যাচুরিটি সুবিধা বাবদ মোট ১৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮৮৯.৩ বিলিয়ন ইউয়ান) পরিশোধ করা হয়েছে, যা গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে ৭.৫% বেশি।
দাবি পরিশোধের পাশাপাশি বীমা খাতের মোট সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম প্রান্তিক শেষে চীনের বীমা কোম্পানি এবং বীমা সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীনে থাকা মোট সম্পদের পরিমাণ বছরের শুরুর তুলনায় ২.৮% বৃদ্ধি পেয়ে ৬.৪ ট্রিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৪২.৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান) দাঁড়িয়েছে।
সম্পদের এই বিশাল ভাণ্ডারের একটি বড় অংশ রয়েছে ব্যক্তিগত জীবন বীমা এবং সাধারণ বীমা (প্রপার্টি অ্যান্ড ক্যাজুয়ালটি) কোম্পানিগুলোর হাতে। সাধারণ বীমা খাতের সম্পদ ৫.৯% বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯৫.০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত ও জীবন বীমা খাতের সম্পদ ২.৬% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। তবে এই সময়ে পুনর্বীমা (রিসিইন্স্যুরেন্স) খাতের সম্পদ সামান্য কমেছে।
যেকোনো বীমা প্রতিষ্ঠানের জন্য সলভেন্সি অনুপাত বা ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। চীনের আইনি নিয়ম অনুযায়ী, একটি বীমা কোম্পানির সার্বিক সলভেন্সি অনুপাত কমপক্ষে ১০০% এবং কোর সলভেন্সি অনুপাত অন্তত ৫০% হওয়া বাধ্যতামূলক।
প্রথম প্রান্তিক শেষে চীনের বীমা কোম্পানিগুলোর গড় সার্বিক সলভেন্সি অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৮১.০% এবং কোর সলভেন্সি অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৩১.৯%-এ, যা নির্ধারিত আইনি সীমার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ অবস্থান নির্দেশ করে।
নিচে দেওয়া তথ্যবহুল টেবিলটি থেকে চীনের সামগ্রিক বীমা খাতের আর্থিক অবস্থা ও বিভিন্ন সূচকের একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে (এখানে ১ মার্কিন ডলার সমান ৬.৭৮ ইউয়ান ধরে হিসাব করা হয়েছে):
| সূচক ও বিবরণ | পরিমাণ (ডলারে) | পরিমাণ (ইউয়ানে) | বার্ষিক বা প্রান্তিকেই পরিবর্তন |
| প্রাথমিক প্রিমিয়াম আয় | $৩ ৪৫.০ বিলিয়ন | ২.৩ ট্রিলিয়ন | +৬.২% (বার্ষিক) |
| দাবি ও সুবিধা পরিশোধ | $১৩৩.৪ বিলিয়ন | ৮৮৯.৩ বিলিয়ন | +৭.৫% (বার্ষিক) |
| ইস্যুকৃত নতুন পলিসির সংখ্যা | ৩২.১ বিলিয়নটি | — | +২৯.০% (বার্ষিক) |
| বীমা খাতের মোট সম্পদ | $৬.৪ ট্রিলিয়ন | ৪২.৫ ট্রিলিয়ন | +২.৮% (বছরের শুরু থেকে) |
| সাধারণ বীমা কোম্পানির সম্পদ | $৪৯৫.০ বিলিয়ন | ৩.৩ ট্রিলিয়ন | +৫.৯% (বছরের শুরু থেকে) |
| ব্যক্তিগত বীমা কোম্পানির সম্পদ | $৫.৬ ট্রিলিয়ন | ৩৭.৩ ট্রিলিয়ন | +২.৬% (বছরের শুরু থেকে) |
| সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির সম্পদ | $২২.৯ বিলিয়ন | ১৫২.৪ বিলিয়ন | +৪.৭% (বছরের শুরু থেকে) |
| পুনর্বীমা কোম্পানির সম্পদ | $১২৮.৯ বিলিয়ন | ৮৫৯.১ বিলিয়ন | -০.২% (বছরের শুরু থেকে) |
| সার্বিক সলভেন্সি অনুপাত (সমগ্র খাত) | ১৮১.০% | — | আইনি বাধ্যবাধকতা: ১০০% |
| কোর সলভেন্সি অনুপাত (সমগ্র খাত) | ১৩১.৯% | — | আইনি বাধ্যবাধকতা: ৫০% |
| সাধারণ বীমার সলভেন্সি (সার্বিক / কোর) | ২৪২.৬% / ২১০.৬% | — | অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান |
| ব্যক্তিগত বীমার সলভেন্সি (সার্বিক / কোর) | ১৭০.৭% / ১১৮.১% | — | সন্তোষজনক অবস্থান |
চীনের বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, প্রথম প্রান্তিকের এই চমৎকার পারফরম্যান্স দেশটির পুরো আর্থিক খাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। বিপুল পরিমাণ দাবি পরিশোধ করার পরেও মূলধনের এই উচ্চ নিরাপত্তা সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের মনে বীমা খাতের প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়ে তুলবে।