খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে এক পোশাক শ্রমিককে চুরির অপবাদে রাতভর নির্যাতনের পর হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত হৃদয় হোসেন (১৯) স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন কাশিমপুর রোডের গ্রিনল্যান্ড গার্মেন্টসে। শুক্রবার (২৭ জুন) রাত ৮টা থেকে শনিবার (২৮ জুন) ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় হৃদয়ের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কারখানা কর্তৃপক্ষ ঘটনা গোপন করার চেষ্টা করায় বিষয়টি বিলম্বে প্রকাশ পায়।
নিহত হৃদয় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শুকতারবাইদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মা ও বোনকে নিয়ে গাজীপুরের হারিনাবাড়ী এসরারনগর হাউজিং এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ২টার পর হৃদয়কে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরদিন সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে একটি অ্যাম্বুলেন্স কারখানায় প্রবেশ করে এবং সাত মিনিট পর মৃত হৃদয়কে নিয়ে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে তার শরীরে একাধিক স্থানে—হাঁটু, কোমর, পিঠ, কনুই, গলা ও মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে হৃদয়কে মৃত অবস্থায় আনার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গার্মেন্টসের শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রায় ৪০০-৫০০ শ্রমিক সড়কে নেমে এসে কারখানার সামনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং কয়েক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর কর্তৃপক্ষ গার্মেন্টসের মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছে।
ঘটনার পর কোনাবাড়ী থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় গ্রিনল্যান্ড গার্মেন্টসের কর্মচারী হাসান মাহমুদ মিঠুনকে (২৮)। তিনি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার হাদিরা বাজার এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দীন বলেন, ‘প্রথমে আমাদের জানানো হয়েছিল, এক ব্যক্তি দেয়াল টপকে কারখানায় ঢুকে আহত হয়েছিলেন। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।’
নিহত হৃদয়ের ভাই লিটন মিয়া (৩৭) কোনাবাড়ী থানায় গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়।
খবরওয়ালা/আরডি