খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র রাজনীতিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এক কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ হলের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতাকে তাদের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে একজন হলেন কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। অন্যজন হলেন স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. মাহদীজ্জামান জ্যোতি। উল্লেখ্য যে, মাহদীজ্জামান জ্যোতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের আপন ছোট ভাই।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, মাহদীজ্জামান জ্যোতির ক্ষেত্রে মাদক বা ‘গাঁজা’ সেবনের একটি ভিডিও সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
| নেতার নাম | বর্তমান পদবি ও হল | অব্যাহতির কারণ | অনুমোদনে ছিলেন |
| শেখ তানভীর বারী হামিম | আহ্বায়ক, কবি জসীম উদ্দীন হল | সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ | সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক (কেন্দ্রীয়) |
| মো. মাহদীজ্জামান জ্যোতি | সদস্য সচিব, স্যার এ এফ রহমান হল | শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড | সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক (কেন্দ্রীয়) |
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন করেছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছাত্রদল একটি সুশৃঙ্খল এবং আদর্শিক ছাত্র সংগঠন। এখানে ব্যক্তিস্বার্থ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান নেই। নেতার আত্মীয় পরিচয় বা ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করে কেউ পার পাবে না—জ্যোতির অব্যাহতির মাধ্যমে এই বার্তাই স্পষ্ট করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ফাঁসের ঘটনাটি ছাত্রদলের ভেতরেও অস্বস্তির জন্ম দিয়েছিল। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে যখন সংগঠনটি সচেষ্ট, তখন এ ধরনের কর্মকাণ্ড ছাত্রদলের নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে। তাই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত এই দুই নেতার বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে কিনা বা এটি স্থায়ী অব্যাহতি হিসেবে গণ্য হবে কিনা, তা বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে সাময়িক অব্যাহতির মাধ্যমে তাদের বর্তমানে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এই ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হল শাখাগুলোতেও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, ছাত্র রাজনীতিতে মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অসামাজিক বা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার প্রবণতা বন্ধে এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যে কেউ সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করলে তার বিরুদ্ধে একই রকম শূন্য সহিষ্ণুতা (Zero Tolerance) নীতি অবলম্বন করা হবে।