খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মিশরের রাজধানী কায়রোর একটি জাদুঘর থেকে প্রায় তিন হাজার বছর পুরোনো একটি স্বর্ণের ব্রেসলেট নিখোঁজ হয়ে গেছে। এটি ফেরাউন আমেনেমোপের ব্রেসলেট, যা ল্যাপিস লাজুলি পাথর দিয়ে সজ্জিত ছিল। ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ জাদুঘরের পুনর্নবীকরণ ল্যাবরেটরিতে এই ব্রেসলেটটি দেখা গিয়েছিল। তবে সেই ল্যাবরেটরি থেকেই এটি নিখোঁজ হয়।
মিশরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুরির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনঅভিযোগ দপ্তরকে তদন্তের জন্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, পাচার রোধের উদ্যোগে দেশের সব বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ব্রেসলেটের ছবি পাঠানো হয়েছে।
জাদুঘরের মহাপরিচালক উল্লেখ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব ছবি ঘুরছে, তা আসলে মূল ব্রেসলেটের নয়। এটি জাদুঘরের আরেকটি প্রদর্শনী ব্রেসলেটের ছবি, যা জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
ঐতিহাসিকরা জানিয়েছেন, ব্রেসলেটের মালিক ছিলেন ফেরাউন আমেনেমোপ, যিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১০৭৬ থেকে ৭২৩ সালের মধ্যে ২১তম রাজবংশের শাসক ছিলেন। প্রথমে সাধারণ কক্ষে তাকে দাফন করা হলেও পরে শক্তিশালী শাসক প্রথম পসুসেনেসের পাশে দ্বিতীয়বারের মতো দাফন করা হয়। তার সমাধি ১৯৪০ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ব্রেসলেটটি চুরি হয়ে আন্তর্জাতিক কালোবাজারে চলে যেতে পারে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক প্রত্নতত্ত্ববিদ ক্রিস্টোস সিরোজিয়ানিস এই ধরনের ঘটনার জন্য অবৈধ প্রত্নসম্পদ ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, চোরাকারবারিরা হয়ত ব্রেসলেটটি পাচার করবে, গলিয়ে ফেলবে, অথবা কোনো ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে তুলে দেবে। তবে এমনও হতে পারে যে, কদিন পর এটি জাদুঘরের আশপাশে ফেলে রাখা অবস্থায় উদ্ধার হবে।
ঘটনার পর মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পুনর্নবীকরণ ল্যাবের সব প্রত্নবস্তু বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ও পর্যালোচনা করা হবে। গত বছরও দুটি চোরাচালানকারীকে আটক করা হয়েছিল, যারা শত শত প্রত্নসম্পদ পাচারের চেষ্টা করছিল।
খবরওয়ালা/শরিফ