খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১০ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাপানের পার্শ্ববর্তী আকাশসীমায় রাশিয়া ও চীনের যৌথ বোমারু যুদ্ধবিমানের টহল চালানো হয়েছে, যা জাপানি সরকারের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা পড়েছে। জাপানি বিমানবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আকাশসীমার পর্যবেক্ষণ জোরদার করেছে। এ ঘটনা এমন সময়ে ঘটল যখন টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তীব্র অবস্থায় রয়েছে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, রাশিয়ার দুটি টিইউ–৯৫ পারমাণবিক সক্ষমতার কৌশলগত বোমারু বিমান জাপান সাগর থেকে পূর্ব চীন সাগরের দিকে উড্ডয়ন করেছে। সেখানে তারা দুটি চীনা এইচ–৬ বোমারু বিমান এর সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে দীর্ঘ ‘দূরপাল্লার যৌথ টহল’ সম্পন্ন করে।
পরবর্তীতে চারটি চীনা জে–১৬ যুদ্ধবিমান বোমারু বিমানগুলোর সঙ্গে যোগ দেয় এবং জাপানের ওকিনাওয়া ও মিয়াকো দ্বীপের মধ্যবর্তী আকাশসীমায় উড্ডয়ন চালায়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, মিয়াকো প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবে স্বীকৃত। একই সময় রাশিয়ার এ–৫০ আগাম সতর্ককারী বিমান এবং দুটি এসইউ–৩০ যুদ্ধবিমানও জাপান সাগরে শনাক্ত হয়েছে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি এক্স (সাবেক টুইটার) এ জানিয়েছেন, “রাশিয়া ও চীনের যৌথ অভিযান স্পষ্টভাবে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।” তিনি আরও জানান, “জাপানের বিমানগুলো যথাযথভাবে আকাশসীমা শনাক্তকরণ করেছে এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সকল নিয়ম মেনে চলেছে।”
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যৌথ ফ্লাইটটি ৮ ঘণ্টা ধরে চলে। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাতটি রুশ এবং দুটি চীনা বিমান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ এলাকায় প্রবেশ করেছে।
গত রোববারও চীনা বিমানবাহী জাহাজ থেকে উড্ডয়ন করা যুদ্ধবিমানের দিকে জাপানি সেনারা রাডার নিশানা শনাক্ত করেছে। তবে বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চীনের সামরিক তৎপরতা এমন সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে যখন গত মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ঘোষণা করেছেন, “তাইওয়ানে চীনা সামরিক পদক্ষেপ যদি জাপানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে, তবে টোকিও প্রতিক্রিয়া দেখাবে।” সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়া বিভিন্ন স্থানে যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণ চালিয়ে আসছে।