খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে এক মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বেশ কিছু তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দেওয়া তাঁর এসব বক্তব্যে ফুটে ওঠে বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ, বিএনপি–জামায়াতের দূরত্ব এবং জাতীয় রাজনীতির উত্তেজনাপূর্ণ চিত্র।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “একটা খারাপ কথা বলতে হয়—আসলে আপনাদের ওষুধ হলো আওয়ামী লীগ। কোনো ভদ্র লোকের সঙ্গে ওরা কাজ করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ একটা অভদ্র দল, এরাও একটা অসভ্য দল।” তাঁর এই মন্তব্য দেশের রাজনীতিতে নতুনভাবে বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলাম এমন একটি দল যারা “ধর্ম বিকৃত করেছে” এবং “মওদুদবাদের ভুল ব্যাখ্যার” মাধ্যমে ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, “এরা ইসলামে বিশ্বাস করে না—এরা ধর্ম বিকৃতকারী একটি সংগঠন। জনগণকে এসব লোকের হাত থেকে বাঁচতে হবে।”
বক্তব্যে ফিরে আসে ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটও। মির্জা আব্বাস বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার ও আলবদররা পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করে দেশের মানুষকে নির্যাতনের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সেই একই শক্তির উত্তরসূরিরা আজ আবার ভোট চাইতে মাঠে নেমেছে, যা দেশের স্বাধীনতার চেতনার প্রতি চরম অবমাননা। তাঁর ভাষায়, “যারা বাংলাদেশ চায়নি, তারাই আজ বাংলাদেশে ভোট চাইছে—এটা খুবই লজ্জাজনক।”
এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আব্বাসের এই মন্তব্য শুধু জামায়াতকে লক্ষ্য করে নয়; বিএনপি–জামায়াতের দীর্ঘদিনের অঘোষিত রাজনৈতিক দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে ইতোমধ্যে জোট রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা আছে বলেও অনেকে মনে করেন।
অন্যদিকে, তাঁর বক্তব্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেও কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয়। আব্বাস দাবি করেন, আওয়ামী লীগ “অভদ্র দল”, আর জামায়াতকে “অসভ্য” দল বলার মাধ্যমে তিনি দেশের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তিকে একই সমতলে দাঁড় করান। এতে বোঝা যায়, বিএনপি বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘিরে নতুন বর্ণনা তৈরি করতে চাইছে—যেখানে তারা নিজেদেরকে ‘ভদ্র, গণতান্ত্রিক শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে মির্জা আব্বাস দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অবস্থান রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাবিত করছে তাও এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সামগ্রিকভাবে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণ, ঐতিহাসিক ক্ষত, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও ক্ষমতার পালাবদলের আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরে। এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।