জাল শিক্ষাসনদ ও ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) সরকারি চাকরি নেওয়ার অভিযোগে প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বলেন, অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি স্নাতক পর্যায়ের জাল সনদ ও মিথ্যা তথ্য দাখিল করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন এবং পরবর্তীতে ক্যাডার পদে নিয়োগ লাভ করেন। পিএসসির তদন্তে এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময় তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অভিযোগগুলো যাচাইয়ের জন্য পিএসসি আলাদা তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে দেখা যায়, দাখিল করা স্নাতক সনদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করা হয়েছে। এসব অনিয়ম সরকারি চাকরিতে নিয়োগের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।
অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তার পরিচয় ও ক্যাডার সংক্রান্ত তথ্য নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| ক্রম | নাম | বিসিএস | ক্যাডার | রেজিস্ট্রেশন নম্বর |
|---|---|---|---|---|
| ১ | সঞ্জয় দাস | ৩৮তম | প্রশাসন | ০৮২৯৪৭ |
| ২ | সুকান্ত কুণ্ডু | ৪১তম | প্রশাসন | ১১০৬৬২৯৬ |
| ৩ | আবু সালেহ মো. মুসা | ৩৮তম | পররাষ্ট্র | ০৮২৮১৪ |
দুদকের মহাপরিচালক জানান, অভিযুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হবে। মামলাগুলোতে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হবে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষ প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে চাকরি বাতিলসহ আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষায় জাল সনদের ব্যবহার রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক। তাই ভবিষ্যতে শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই আরও কঠোর করা এবং নিয়োগ-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ জোরদারের দাবি উঠেছে।
দুদক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, এই মামলাগুলো সরকারি চাকরিতে জালিয়াতির বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।



