খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে চাঁদা নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে রিয়াদের নাখালপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চারটি চেক উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে চেক উদ্ধারের বিষয়টি জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তবে এই চেক কোন প্রতিষ্ঠান দিয়েছে, তা তিনি জানাননি।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ওই সোয়া দুই কোটি টাকার চেক নেওয়া হয়েছে রংপুর-৬ আসনে (পীরগঞ্জ) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘ট্রেড জোন’ থেকে। ট্রেড জোনের পোশাক কারখানাসহ নানা ব্যবসা রয়েছে।
ট্রেড জোনের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম গতকাল বলেন, সোয়া দুই কোটি নয়, মোট ৫ কোটি টাকার ১১টি চেক নিয়েছিলেন আবদুর রাজ্জাকসহ ছয়জন। তবে একটি চেকের বিপরীতেও তাঁরা টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে ট্রেড জোন কর্তৃপক্ষ টাকা রাখেনি। তিনি বলেন, টাকা উত্তোলন করতে না পেরে রাজ্জাকসহ অন্যরা ট্রেড জোনের মালিককে হুমকি দিচ্ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা যে চারটি চেক উদ্ধার করেছে, তার দুটিতে ১ কোটি করে ২ কোটি, একটিতে ১৫ লাখ ও আরেকটিতে ১০ লাখ টাকার অঙ্ক উল্লেখ রয়েছে।
পাঁচ কোটি টাকার চেক
পুলিশ সূত্র থেকে তথ্য পেয়ে ট্রেড জোনের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলামকে খুঁজে বের করা হয়। তিনি বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মালিক আবুল কালাম আজাদ। তাঁর কাছ থেকেই পাঁচ কোটি টাকার চেক নেন রাজ্জাকসহ ছয়জন।
আবুল কালাম আজাদ পরে আর নির্বাচন করেননি বলে উল্লেখ করে ট্রেড জোনের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি (আবুল কালাম আজাদ) রাজনীতি থেকেই সরে গিয়েছিলেন। কারণ, মতের মিল হয়নি।
সাইফুল বলেন, সম্প্রতি তাঁদের প্রতিষ্ঠান একটি জমি বিক্রির উদ্যোগ নেয়। তাঁদের ধারণা, ওই জমি কেনাবেচার মধ্যস্থতাকারী এক ব্যক্তি আবদুর রাজ্জাকদের এই খবর দেন। আবদুর রাজ্জাকসহ ছয়জন গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় ট্রেড জোনের গ্রিন রোডের কার্যালয়ে গিয়ে জোর করে সবার ফোন নিয়ে নেন। তাঁরা দাবি করেন যে ভবনের নিচে শ দুয়েক লোক উপস্থিত রয়েছে।
রাজ্জাকেরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে গিয়েছিলেন উল্লেখ করে সাইফুল বলেন, ‘ওরা ওই ছবি পাশে রেখে স্যারের (আবুল কালাম আজাদ) ছবি তোলে। জুতার মালা পরানোর হুমকি দিয়ে নগদ টাকা চায়। যদিও তারা অফিসে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করে নগদ টাকা পায়নি। এরপর চেক বই বের করে জোর করে ১১টি চেকে ৫ কোটি টাকা লিখে নেয়। জোর করে সইও নেয়।’
এদিকে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তাদের উদ্ধার করা চারটি চেকে সই ও প্রতিষ্ঠানের সিল রয়েছে। তবে গ্রহীতা ও তারিখের ঘর ফাঁকা পাওয়া গেছে।
সাইফুল বলছেন, আবদুর রাজ্জাকেরা ব্যাংকে কয়েকটি চেক জমা দিয়েছিলেন। তবে ওই হিসাবে টাকা রাখা হয়নি। তাঁরা কোনো টাকাই তুলতে না পেরে আবুল কালাম আজাদকে হুমকি দিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই চাঁদা দাবি করা ব্যক্তিরা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন বলে গণমাধ্যমে দেখেন তাঁরা। ট্রেড জোনের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজির মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয় ২৭ জুলাই। এ ঘটনা ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। আবদুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তাঁর অসচ্ছল পরিবার হঠাৎ ছাদ ঢালাই করে বাড়ি করছে। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতেন।
গুলশানে চাঁদাবাজির বিষয়ে ফেসবুকে গত শনিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা লেখেন, ‘ঠিকমতো খোঁজ নিলে বুঝবেন, এদের শিকড় অনেক গভীরে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড