গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অন্তত ১০টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুরো বাজার এলাকায় রাতভর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (২৯ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ঢাকা–রংপুর মহাসড়কের ওই অংশে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল ওরফে মারো সামাদের অনুসারীরা পূর্ব বিরোধের জের ধরে বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে মারধর করেন। এই ঘটনার পরই এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই পক্ষের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করে। প্রথমে কথাকাটাকাটি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা পরে পূর্ণাঙ্গ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং দোকানপাটে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মিল্লাত সরকার মিলন এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজা।
অন্যদিকে, সংঘর্ষের সময় জুনদহ বাজারের অন্তত ১০টি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনেক দোকানদার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে প্রশাসনের কাছে যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই আহত নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক এবং তাঁর পুত্র ডা. আবির হাসান দীপ। তারা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
এ ঘটনায় জেলা বিএনপির নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে সংঘর্ষ, হামলা ও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারোয়ারী আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।