খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
নতুন অর্থবছরের শুরুতেই দেশের অর্থনীতিতে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ৬ দিনেই দেশে এসেছে প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত সময়ে প্রবাসীরা মোট ৬৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। বর্তমান দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৫৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রবাসীদের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে আসার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। নতুন অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সের এমন চাঙ্গা ভাব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা ডলার সংকট কাটাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৈনিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শুধুমাত্র গতকাল সোমবার অর্থাৎ ৬ জুলাই এক দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৫৮৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর গত বছরের জুলাই মাসের প্রথম ৬ দিনের তুলনায় এবারের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন এবং অনেক বেশি আশাব্যঞ্জক। গত বছর এই একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের এই প্রথম ৬ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে অবিশ্বাস্যভাবে, যার শতকরা হার প্রায় ৬২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম বা ক্রলিং পেগ পদ্ধতির কারণে প্রবাসীরা এখন বৈধ পথে টাকা পাঠাতে অনেক বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন। হুন্ডির চেয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে এখন ভালো রেট পাওয়া যাচ্ছে, যার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহে। এর পাশাপাশি সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহার পর প্রবাসীদের পরিবারগুলোর কাছে টাকা পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা ফেরাও এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।
সাধারণত বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় নতুন অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি কিছুটা কম থাকে। তবে এবারের জুলাই মাসের শুরুটা হয়েছে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশ আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, মাসের শুরুর এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে পুরো জুলাই মাস শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ তিন বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা হবে দেশের ইতিহাসে অন্যতম একটি বড় রেকর্ড। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ডলারের আগমন আমদানি বিল মেটানো এবং সার্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে বড় ধরনের স্বস্তি দেবে।