খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক সংকটকালীন পরিস্থিতিতে মজুদের ওপর চাপ কমাতে আজ ৮ মার্চ, রবিবার থেকে সারা দেশে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গত শুক্রবার রাজধানীর পরীবাগের একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শনকালে এই নতুন পদ্ধতির ঘোষণা দেন। দীর্ঘমেয়াদী সংকট এড়াতে এবং অহেতুক আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা রোধ করতেই সরকার এই কঠোর কিন্তু সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে জ্বালানি মজুদ নিয়ে নেতিবাচক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কিনে রাখার একটি হুজুগ তৈরি হয়েছে। ডিলাররাও তাদের স্বাভাবিক কোটার চেয়ে অতিরিক্ত তেল উত্তোলনের চেষ্টা করছেন, যা জাতীয় মজুদের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা করতেই রেশনিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, যানবাহনের ধরণ ভেদে দৈনিক তেল সংগ্রহের একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে পালনের জন্য লিখিত আদেশ পাঠানো হয়েছে।
নিচে বিভিন্ন যানবাহনের জন্য দৈনিক তেলের বরাদ্দ সীমা প্রদান করা হলো:
| যানবাহনের ধরণ | জ্বালানির ধরণ | দৈনিক বরাদ্দের সীমা |
| মোটরসাইকেল | পেট্রল বা অকটেন | সর্বোচ্চ ২ লিটার |
| ব্যক্তিগত গাড়ি (কার) | পেট্রল বা অকটেন | সর্বোচ্চ ১০ লিটার |
| জিপ (SUV) ও মাইক্রোবাস | অকটেন বা ডিজেল | ২০ থেকে ২৫ লিটার |
| পিকআপ ও লোকাল বাস | ডিজেল | ৭০ থেকে ৮০ লিটার |
| দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক | ডিজেল | ২০০ থেকে ২২০ লিটার |
| কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনার ট্রাক | ডিজেল | ২০০ থেকে ২২০ লিটার |
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে তেল মজুদ করার কোনো প্রয়োজন নেই। রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, প্রতিটি খাতের যানবাহন যেন তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানিটুকু পায় এবং একইসাথে জাতীয় মজুদও সুরক্ষিত থাকে।” তিনি আরও জানান যে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে এই বিধিনিষেধ শিথিল করা হতে পারে।
বিপিসি জানিয়েছে, এই রেশনিং ব্যবস্থা তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ টিম কাজ করবে। কোনো পাম্প নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত তেল বিক্রি করলে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ গ্রাহকদের অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি পরিহার করে জ্বালানি সাশ্রয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।