খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় ঝরে গেল এক প্রকৌশলীর প্রাণ। গাজীপুরের টঙ্গীতে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় তুহিন ইসলাম (৩৪) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় অহিদুল ইসলাম নামে আরও একজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে টঙ্গীর মুন্নুগেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশ দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
নিহত তুহিন ইসলাম পেশায় একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার আন্দালবাড়ি গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। কর্মসূত্রে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর থেকে মোটরসাইকেলে চেপে ঢাকার দিকে রওনা গিয়েছিলেন তুহিন ইসলাম ও তার সঙ্গী অহিদুল। পথে মোটরসাইকেলটি টঙ্গীর ব্যস্ততম মুন্নুগেট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা ‘অনাবিল পরিবহন’-এর একটি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গেই মোটরসাইকেলসহ রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন দুজন।
সংঘর্ষের তীব্রতায় তুহিন গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনাকবলিত স্থান থেকে রক্তাত অবস্থায় স্থানীয় আশপাশের লোকজন ও পথচারীরা এগিয়ে এসে দুজনকেই উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তুহিনকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত অপর আরোহী অহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর পরই চালক কায়দা করে বাসটি ফেলে রেখেই হেলপারসহ ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। ফলে ঘাতক বাসের চালক ও সাহায্যকারী দুজনকেই আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অনাবিল পরিবহনের ওই বাসটিকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, নিহতের মৃতদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘাতক বাসটিকে জব্দ করে থানায় আনা হলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।