খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সমন্বয়ক পদ পেয়ে ‘জীবন বদলে’ ফেলেছেন হামিদুর রহমান রানা। তার গ্রামের বাড়ি মহেশপুরের বলিভদ্রপুরে।
অভাব-অনটনের সংসার চালাতে গ্রামের মসজিদে মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে ইমামতির চাকরি নিয়েছিলেন। চলাচলের জন্য ব্যবহার করতেন বাইসাইকেল। হাতে থাকত অল্প দামের মোবাইল ফোনসেট।
তবে সমন্বয়ক হওয়ার পর পরপরই বদলে যায় তার জীবনযাপন। বাইসাইকেলের বদলে ব্যবহার শুরু করেন দামি মোটরসাইকেল, আগের কম দামের মোবাইলের বদলে ব্যবহার করতে থাকেন লাখ টাকার মোবাইল ফোনসেট। শুধু একটি পদ তাঁর জীবন বদলে দিতে শুরু করেছে।
এলাকায় এখন সবাই তাকে ‘সমন্বয়ক রানা’ নামেই ডাকে। জানা গেছে, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব সাইদুর রহমানের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত এই হামিদুর রহমান রানা।
সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুরে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পুড়াপাড়া পশুর হাট থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়, নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে কমিশন ও চাল বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মহেশপুর পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বরাদ্দ আছে। এই কাজের ঠিকাদারি নিয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানার সঙ্গে হামিদুর রহমান রানার বনিবনা হচ্ছিল না। পৌরসভার কাজ বণ্টনের জন্য গত ২২ জুলাই দুপুরে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে নিয়ে মহেশপুরে গিয়ে জনরোষে পড়েন রানা ও অন্যরা। ওই সময় আরেকটি পক্ষ তাঁদের অবরোধ করে রাখে।
পরে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে রেহাই পান তাঁরা। রানার বিরুদ্ধে মহেশপুর সীমান্তে চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদাও দাবি করেন রানা। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওই কর্মকর্তাকে মবের ভয় দেখান রানা। পরে ভয়ে ওই কর্মকর্তা অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান।
জেলা সংসদের মুখ্য সংগঠক মেহেদী হাসান বাপ্পী বলেন, ‘জুলাই মাসে আমি মাঠে কখনো রানাকে দেখিনি। হঠাৎ একদিন জানতে পারি, সে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা হয়েছে। এর পর থেকে মহেশপুরের বিভিন্ন স্থানে সমন্বয়ক পরিচয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে সে। এ নিয়ে আমরা একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি। তার অপকর্ম নিয়ে প্রতিবাদ করলে উল্টো আমাদের হামলা-মামলার ভয় দেখায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রানা আগে টাকার অভাবে চলতে পারত না। এখন সে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছে। দামি মোটরসাইকেলে চড়ে। এলাকায় বেশ কয়েক বিঘা জমি কিনেছে বলেও শোনা যাচ্ছে। সে মূলত চাঁদাবাজিসহ সীমান্তে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে অল্প দিনে অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছে।’
মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, ‘সমন্বয়ক রানা আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পৌরসভার ঠিকাদারির কাজ বাগিয়ে নিতে চায়। গত ২২ জুলাই একটি দরপত্রের কাজের ভাগ নেওয়ার জন্য তার সংগঠনের জেলা নেতাদের আমাদের এখানে নিয়ে এসেছিল। পরে আরেকটি গ্রুপের হস্তক্ষেপে তারা পালিয়ে যায়।’
মহেশপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। তবে লোকমুখে সমন্বয়ক রানার অপকর্মের কথা শুনেছি। কেউ তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত হামিদুর রহমান রানা বলেন, ‘কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে আমার অবস্থান তুলে ধরেছি। আমাদের সঙ্গে এখন বিভিন্ন মানুষ শত্রুতা করছে।’
খবরওয়ালা/এমইউ