খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৯ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবির একটি বিশেষ দল এক সফল অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে। সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার থেকে আনা এই বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল ও ক্ষতিকর মাদকের চালানটি উদ্ধার করে উখিয়া-৬৪ বিজিবির অধীনস্থ পালংখালী বিওপি।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম।
আটক হওয়া দুই মাদক পাচারকারী হলেন টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখালী হাতীমারা এলাকার মৃত সৈয়দ আলমের ছেলে নুর বশর (২২) এবং একই ইউনিয়নের উলুবনিয়া এলাকার আলী আকবরের ছেলে আবুল ফয়েজ (২৫)।
বিজিবি সুত্রে জানা যায়, মাদক পাচারের গোপন খবরের ভিত্তিতে পালংখালী বিওপির একটি ক্ষিপ্র ও সতর্ক টহল দল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কৌশলগত অবস্থান উলুবনিয়া গ্রামের জোড়াকাঠি এলাকায় অবস্থান নেয়। সোমবার ভোরে ভোরের আবছা আলোয় মিয়ানমারের দিক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে দুই তরুণকে হাতব্যাগ নিয়ে বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকতে দেখা যায়। তাদের হাঁটাচলা ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবির জওয়ানরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দুই সীমান্ত পাচারকারী হাতে থাকা ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালানোর প্রাণপণ চেষ্টা করে। তবে বিজিবির চৌকস দলটি দ্রুত পিছু ধাওয়া করে ঘটনাস্থলেই নুর বশর ও আবুল ফয়েজকে কব্জা করতে সক্ষম হয়।
আটক করার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষী ও সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগগুলো তল্লাশি করা হয়। ব্যাগ খোলার পর দেখা যায়, তার ভেতরে বিশেষভাবে কসটেপ পেঁচানো খাকি রঙের প্যাকেটে সাজানো নীল রঙের ৩৫টি ছোট-বড় কার্টন রয়েছে। কার্টনগুলো খুলে গুনে সেখানে সাড়ে তিন লাখ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি।
আটকের পর তাৎক্ষণিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দুই মাদক কারবারি স্বীকার করেছে যে, সীমান্ত এলাকার ওপার থেকে মিয়ানমারের এক চিহ্নিত চোরাকারবারীর কাছ থেকে তারা ইয়াবার এই বড় চালানটি সংগ্রহ করেছিল। কৌশল খাটিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে এসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অধিক মূল্যে বিক্রি ও বিতরণের উদ্দেশ্যে এই বিশাল চালান বহন করা হচ্ছিল।
উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সীমান্ত পেরিয়ে যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য প্রবেশ রোধে বিজিবির জওয়ানরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। শুধু এই বাহকেরাই নয়, এই সুনির্দিষ্ট চালানের পেছনে মূল মদদদাতা, স্থানীয় সরবরাহকারী এবং সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও দ্বিগুণ জোরদার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য