খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যৌথভাবে অর্ধশতাধিক স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার করেছে। উদ্ধার অভিযান মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় পরিচালনা করা হয়।
উখিয়ায় দায়িত্বরত বিজিবি ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, “আমরা সীমান্ত এলাকা থেকে প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৬০টি স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার করেছি। এগুলোকে হোয়াইক্যং বিজিবি ফাঁড়িতে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো বিস্ফোরক পদার্থ পাওয়া যায়নি, তবে এ ধরনের চাপ প্লেট অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এগুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে।”
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, একটি স্থলমাইন সাধারণত চারটি অংশ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে অগ্রভাগ বা চাপ প্লেট মাটির ওপর বা অল্প গভীরে স্থাপন করা থাকে। যখন কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন এর ওপর চাপ প্রয়োগ করে, তখন মাইনটি সক্রিয় হয়ে যায়। ফলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্তে এই ধরনের অভিযানগুলো মূলত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিচালিত হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, “সীমান্ত এলাকায় আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পাহারা, তল্লাশি এবং নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”
উদ্ধারকৃত স্থলমাইন সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপ করা হলো:
| তথ্যবস্তু | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযান স্থান | হোয়াইক্যং ইউনিয়ন, উলুবনিয়া, টেকনাফ |
| অভিযান তারিখ | ২০ জানুয়ারি ২০২৬ |
| উদ্ধারকৃত চাপ প্লেট সংখ্যা | ৫০–৬০টি |
| অভিযানকারী সংস্থা | বিজিবি ৬৪ ব্যাটালিয়ন ও সেনাবাহিনী |
| বিস্ফোরক উপস্থিতি | প্রাথমিকভাবে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি |
| পরবর্তী ব্যবস্থা | বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা |
স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হলেও কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, সীমান্ত এলাকা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখা হচ্ছে। সীমান্তের এসব অভিযান কেবল দেশের নিরাপত্তা জোরদার করেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আগত অবৈধ কার্যকলাপও প্রতিরোধ করে।
সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালাচ্ছে। কর্মকর্তারা মনে করান যে, সীমান্তবর্তী এলাকার নাগরিকরা যদি কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান, তাহলে অবিলম্বে স্থানীয় বিজিবি ফাঁড়ি বা পুলিশকে জানানো উচিত।
উদ্ধার অভিযানটির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি এবং অল্পতেই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।