ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শম্ভুগঞ্জ এলাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে সাহেক কাচারি এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে যাত্রী নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছিল। এ সময় একটি ট্রাক ইজিবাইকটিকে চাপা দিলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ইজিবাইকে থাকা কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনজনে। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী এবং একজন পুরুষ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শিবিরুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার সাহেক কাচারি এলাকায় যাত্রীবাহী ইজিবাইকটিকে একটি ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। আহত কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে আরও একজন মারা যান।
তিনি বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে ব্যস্ত এই সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল এবং ছোট যানবাহনের যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কটি এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগপথগুলোর একটি। প্রতিদিন এ পথে বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যানবাহনসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল। মহাসড়কে দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের সঙ্গে এসব অপেক্ষাকৃত ছোট যানবাহনের চলাচল থাকায় অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কিংবা সাধারণ যাত্রীর প্রাণহানি হলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে। তাই মহাসড়কে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের সতর্কতা এবং ছোট যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষ কীভাবে ঘটেছে, ট্রাকটির চালক দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না কিংবা তাকে আটক করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে তদন্তের পরই আরও স্পষ্ট তথ্য জানা যেতে পারে।
পুলিশ নিহত তিনজনের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা চলছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।