খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৮ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
হোয়াইট হাউসের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরান ‘আলোচনায় বসতে চেয়েছিল’, কিন্তু এখন ‘অনেক দেরি হয়ে গেছে’। তিনি দাবি করেন, ইরান সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হয়ে পড়েছে এবং তাদের কোনো কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। এমনকি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও ট্রাম্পের সন্দেহ রয়েছে।
ট্রাম্পের এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। জাতিসংঘে ইরানি মিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কোনো ইরানি কর্মকর্তা কখনো হোয়াইট হাউসের গেটে মাথা নত করে কথা বলার অনুরোধ করেননি। ট্রাম্পের মিথ্যা বক্তব্যের চেয়ে বেশি ঘৃণ্য হচ্ছে তাঁর ভীরু হুমকি, যেখানে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইরান কখনো হুমকির মুখে আলোচনা করে না, হুমকির মুখে শান্তি চায় না এবং বিশেষত একজন ব্যর্থ যুদ্ধবাজের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও এর আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হুমকির ভাষায় তেহরানের কোনো সাড়া নেই।
এদিকে ইরানকে নিয়ে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়—এমনটিই জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
সিনেটে এক শুনানিতে হেগসেথ বলেন, ‘যখনই যুদ্ধ বা শান্তি সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হবে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত।’ তবে তিনি প্রকাশ্যে কোনো হামলার বিকল্প পরিকল্পনার কথা স্বীকার করতে চাননি।
সব মিলিয়ে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে যেমন শঙ্কা বেড়েছে, তেমনি ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে বিভ্রান্তিও তীব্র হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই দোদুল্যমান অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এখন সবার নজর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
খবরওয়ালা/এন