ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলায় ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও চারজন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল আটটার দিকে উপজেলার কচুবাড়ী পোস্ট অফিসপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তিনি ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫)। নিহত অপর ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪০ বছর হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিসপাড়া এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে পিকআপটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে সজোড়ে ধাক্কা দেয়। একই গতিতে থাকা পিকআপটি এর পরপরই পাশের একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার আরোহীসহ মোট সাতজন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম ও অজ্ঞাতপরিচয় সেই ব্যক্তি মারা যান। বাকি আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে আটক করে পুলিশ। আটক পিকআপ চালকের নাম হাবিবুর রহমান (২৪)। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে।
ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে অবস্থান নেয়। আটক পিকআপ চালকের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে নিহত অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।



