দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আজ রোববার সকালে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। জেলার হরিপুর উপজেলার আটঘরিয়া এলাকাকে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে কম্পনটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকেন্দ্র।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর জানান, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪। এটিকে মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব ছিল খুবই স্বল্প সময়ের, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সামান্য কৌতূহল ছাড়া বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় জেলার বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত মানুষ হালকা কম্পন অনুভব করলেও কোথাও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আসেনি। বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ কিংবা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানে মাঝেমধ্যে স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ ধরনের মৃদু ভূমিকম্প সাধারণত বড় কোনো ক্ষতির কারণ হয় না, তবে এগুলো ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক গতিবিধির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। গত ২১ নভেম্বর শুক্রবার ও পরদিন শনিবার প্রায় ৩১ ঘণ্টার ব্যবধানে চারবার ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে সংঘটিত ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকা এবং গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার। ওই ঘটনায় দেশে ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা অনুসরণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
নিচের সারণিতে সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পগুলোর সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—
| তারিখ | এলাকা | মাত্রা | উৎপত্তিস্থল | ক্ষয়ক্ষতি |
|---|---|---|---|---|
| আজ রোববার | ঠাকুরগাঁও | ৩.৪ | হরিপুর, আটঘরিয়া | নেই |
| ২১ নভেম্বর | ঢাকা ও আশপাশ | ৫.৭ | নরসিংদী, মাধবদী | নিহত ১০, আহত ৬০০+ |
| নভেম্বর–ডিসেম্বর | ঢাকা অঞ্চল | একাধিক | বিভিন্ন | সীমিত |
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও ভূমিকম্প সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রচার করা হবে, যাতে জনগণ সময়মতো সতর্ক থাকতে পারে।