ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৫১

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও প্রাণহানির উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৫১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চারজনই নারী। তাঁদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। অন্য দুজনের একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং অপরজন ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে মৃত ব্যক্তিদের বয়স, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের শারীরিক জটিলতা কিংবা মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ২৫১ জন। এই পরিসংখ্যান দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর বড় ধরনের চাপের বিষয়টি তুলে ধরছে।

হাসপাতালে রোগীর চাপ, সতর্কতা জরুরি

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পানির ট্যাংক এবং নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এ মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত স্বাস্থ্য পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ব্যক্তিগত সতর্কতা যথেষ্ট নয়; বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে উপযুক্ত প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বরের পাশাপাশি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। জ্বর কমে যাওয়ার পরও কোনো কোনো রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই জ্বর কমে গেলেই ঝুঁকি কেটে গেছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

চলতি বছরের চিত্র কী বলছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে প্রকাশিত হিসাবের সময় পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ২৫১ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮৫১ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দিয়ে দেশের মোট সংক্রমণের পূর্ণ চিত্র নির্ধারণ করা যায় না। যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বা আক্রান্ত হলেও শনাক্ত হননি, তাঁরা এ হিসাবের বাইরে থাকতে পারেন।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মশকনিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘরবাড়ি ও আশপাশে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা এবং অসুস্থ হলে অবহেলা না করে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পাদকীয় তথ্য-সতর্কতা: প্রতিবেদনটির দৈনিক ও মোট পরিসংখ্যান আপনার দেওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তির তথ্যের ভিত্তিতে রাখা হয়েছে। প্রকাশের আগে সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংখ্যাগুলো মিলিয়ে নেওয়া উচিত, কারণ ডেঙ্গুর দৈনিক হিসাব দ্রুত পরিবর্তিত হয়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।