খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করল নিউজিল্যান্ড। রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ড্যারিল মিচেলের অপরাজিত ১৩১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে স্বাগতিক ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে কিউইরা। এই জয়ের মাধ্যমে কিউইরা কেবল সিরিজে ১-১ সমতাই ফেরায়নি, বরং ভারতের মাটিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন রেকর্ডও গড়েছে। একই সঙ্গে ভারতের বিপক্ষে টানা আট ম্যাচে জয়খরা কাটিয়ে দাপুটে প্রত্যাবর্তন করল ব্ল্যাক-ক্যাপসরা।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ভেন্যু | রাজকোট, ভারত |
| ভারতের স্কোর | ২৮৪/৬ (৫০ ওভার) |
| নিউজিল্যান্ডের স্কোর | ২৮৫/৩ (৪৭.৩ ওভার) |
| ফলাফল | নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী |
| ম্যাচ সেরা | ড্যারিল মিচেল (১৩১* রান) |
| সিরিজের অবস্থা | ১-১ সমতা (৩ ম্যাচের সিরিজ) |
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড শুরুতে কিছুটা বিপর্যয়ে পড়েছিল। দলীয় ৪৬ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়া কিউইদের হাল ধরেন ড্যারিল মিচেল ও উইল ইয়াং। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার ১৬২ রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন। উইল ইয়াং ৮৭ রান করে আউট হলেও মিচেল অবিচল ছিলেন। ১১৭ বলে ১৩১ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি হাঁকিয়েছেন দর্শনীয় সব বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি। এটি ছিল ওয়ানডে ক্রিকেটে মিচেলের অষ্টম সেঞ্চুরি। সাম্প্রতিক সময়ে মিচেল যে অতিমানবীয় ফর্মে আছেন, তার প্রমাণ মেলে তাঁর শেষ ১০ ইনিংসের পরিসংখ্যান দেখলে; যেখানে তিনি ২টি সেঞ্চুরিসহ ৭টি হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নামা ভারতের শুরুটা ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার। অধিনায়ক শুবমান গিল হাফ-সেঞ্চুরি (৫৫) করে ভিত গড়ে দিলেও টপ অর্ডারের দুই স্তম্ভ রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি আজ ব্যর্থ হয়েছেন। রোহিত ২৪ ও কোহলি ২৩ রান করে পেসার ক্রিস্টিয়ান ক্লার্কের শিকার হন। তবে মিডল অর্ডারে লোকেশ রাহুল ছিলেন দুর্দান্ত। তিনি ৯২ বলে ১১২ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে দলকে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরে পৌঁছে দেন। এটি ছিল রাহুলের ক্যারিয়ারের অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। কিন্তু ড্যারিল মিচেলের ব্যাটিং তাণ্ডবের কাছে রাহুলের এই সেঞ্চুরি ম্লান হয়ে যায়।
নিউজিল্যান্ডের জয়ে ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলারদেরও ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। বিশেষ করে পেসার ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। তিনি রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট শিকার করে ভারতের বড় স্কোরের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেন। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই ভারত ৩০০ রানের কোটা স্পর্শ করতে ব্যর্থ হয়।
আগামী ১৮ জানুয়ারি ইন্দোরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। রাজকোটের এই ঐতিহাসিক জয় কিউইদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে রাখবে, অন্যদিকে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে ভারত।