খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিদায়ি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (Very Important Person – VIP) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দায়িত্বের বাইরে থাকা সময়েও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)-এর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকবেন।
তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা প্রজ্ঞাপনটি ১০ ফেব্রুয়ারি জারি হলেও সম্প্রতি তা জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “সরকার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।”
ড. ইউনূস যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে নিজেকে এই মর্যাদা দিয়েছেন, তা ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর জারি হওয়া অধ্যাদেশ নং ২৮৫-এর সংশোধনী। ওই অধ্যাদেশে বলা হয়েছিল:
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে স্ব স্ব পদে কর্মবসনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ তিন মাস অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষণা করা যাবে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।
তবে বিদায়ি উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস কেবল নিজের জন্য এই সময়সীমা এক বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন, অন্যদের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করেননি।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির জন্য আলাদা করে আইন প্রণয়ন বা পরিবর্তন করা যায় না। এই গোপন অধ্যাদেশ একদিকে সংবিধানের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন, অন্যদিকে ড. ইউনূসের স্বার্থপরতার উদাহরণ। তারা উল্লেখ করেছেন যে, যদি তিনি বিদায়ি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যদের জন্যও সময় বৃদ্ধি করতেন, তবে এটি যৌক্তিকতার সীমার মধ্যে পড়ত। কিন্তু শুধু নিজেকে জন্য এক বছরের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করা কেবল অনৈতিক নয়, এটি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ড. ইউনূস শুধু নিজেকে বিশেষ মর্যাদা দেননি; বিদায়ী ১৮ মাসের সময়কালে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
| সুযোগ-সুবিধা | বিবরণ |
|---|---|
| দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহার | নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামলা তুলে নেওয়া |
| সুদ মওকুফ | নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদ মওকুফ করা |
| লাইসেন্স অধিগ্রহণ | বিশ্ববিদ্যালয় ও রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নিজের নামে নেওয়া |
| রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা | দায়িত্বের আগে ও পরে নিজের জন্য স্বীকৃত সুবিধা গ্রহণ |
বৈধতা ও নৈতিকতার আলোকে এই সব কর্মকাণ্ড ব্যাপক সমালোচনার মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্বের বাইরে থাকা অবস্থায় এমন স্বার্থপর আচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধী।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই পদক্ষেপ রাষ্ট্রীয় নৈতিকতা, আইন শৃঙ্খলা এবং ক্ষমতার সীমা বিষয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।