খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ১:৩২ পিএম
রাজধানীর বনানী থানা এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর লক্ষ্যে ঝটিকা মশাল মিছিল বের করার প্রস্তুতিকালে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা রাজনীতিতে নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত অর্থাৎ শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বনানী থানা পুলিশের একটি দল নিয়মিত টহল ডিউটি পালন করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে আর্মি স্টেডিয়ামের দিকে যাওয়ার পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের (আউটগোয়িং) পশ্চিম পাশে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে মশাল মিছিলের জন্য জড়ো হয়েছে।
সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে বনানী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা এলোমেলোভাবে সটকে পড়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকেই ৭ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে রাতের অন্ধকার এবং কৌশলী অবস্থানের সুযোগ নিয়ে মূল দলটির বাকি সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশ আটক ব্যক্তিদের হেফাজত ও অকুস্থল থেকে নাশকতার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭০টি তৈরি করা মশাল, ১টি ব্যানার এবং দলবদ্ধভাবে নিজেদের পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ৭৭টি বিশেষ ফেসমাস্ক। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গভীর রাতে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের দলে বেশ কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক যুবকের পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরও ছিল। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, গ্রেফতারকৃত ৭ জনের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ৩ জন হলেন—মোঃ আরিফ (১৯), মোঃ শাকিল আহমেদ (১৯) এবং আশিক আহমেদ মোস্তফা (১৯)। বাকি ৪ জন আইনি পরিভাষায় ‘আইনের সংঘাতে জড়িত শিশু’ বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বনানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত ব্যক্তিবর্গ এবং পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাতনামা অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মশাল মিছিলের আয়োজক ও নেপথ্যের অর্থদাতাদের খুঁজে বের করতে এবং রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য