চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক চশমা হিল এলাকায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের পারিবারিক বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘটিত এই হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, এই বাসভবনটি চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রয়াত জননেতা ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মৃতিবিজড়িত পারিবারিক বাসভবন হিসেবে স্বীকৃত।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
স্থানীয় সূত্রের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত নগরীর চশমা হিলস্থ বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা আকস্মিকভাবে চত্বরে প্রবেশ করে ভবনের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করলে ভবনের গ্যাস পাইপলাইনেও আগুন ধরে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
গভীর রাতে বিকট শব্দ ও আগুনের শিখা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নিরাপত্তা কর্মী ব্যতীত উক্ত বাসভবনে পরিবারের কোনো সদস্য অবস্থান করছিলেন না। ফলে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতি
হামলা ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দল এবং স্থানীয় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রদেয় তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডে ভবনের বাহ্যিক কাঠামোর ক্ষতিসহ আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট এবং চূড়ান্ত আর্থিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মন্তব্য: পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “বৃহস্পতিবার গভীর রাত আনুমানিক ২টার দিকে চশমা হিলের বাসভবনে হামলার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি
উক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর অনভিপ্রেত পরিস্থিতি ও নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো চশমা হিল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি যেকোনো তথ্যের জন্য পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে।



