খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
টটেনহ্যাম হটস্পারের ম্যাচে এমন এক মুহূর্ত জন্ম নিল, যা বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তদের চোখে সঙ্গে সঙ্গে ভেসে ওঠে ঢাকার মাঠের স্মৃতি। ২০ দিন আগে নেপালের বিপক্ষে হামজা চৌধুরীর যেই দুর্ধর্ষ বাইসাইকেল কিক দেখে দেশবাসী বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়েছিল, ঠিক তারই হুবহু পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে বসলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। শুধু গোলই নয়, ম্যাচের গল্পটাও এক—হামজার মতো রোমেরোও দুই গোল করলেন, আর ম্যাচও শেষ হলো ২-২ ড্রয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিউক্যাসল ও টটেনহ্যাম আক্রমণ–প্রতি-আক্রমণে ব্যস্ত ছিল। প্রথমার্ধে গোল না এলেও বিরতির পরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। একটি দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে ব্রুনো গিমারেশ গোল করে নিউক্যাসলকে এগিয়ে দেন। টটেনহ্যাম তখনো তাল খুঁজে পাচ্ছিল না। কিন্তু খেলার ৭৮ মিনিটে মোহামেদ কুদুসের ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে রোমেরো গোল করে সমতায় ফেরান।
এই গোলের পর স্পার্সরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তবে ভাগ্য যেন সঙ্গ দিচ্ছিল না। খেলার ৮৬ মিনিটে আবারও নিউক্যাসল গোল করে এগিয়ে যায়। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল টটেনহ্যাম আর ফিরে আসতে পারবে না। কিন্তু ম্যাচ তখনো বাকি ছিল, বাকি ছিল নাটকের শেষ দৃশ্য।
ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে একটি কর্নার পায় টটেনহ্যাম। কর্নার থেকে আসা বল ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে পারেনি নিউক্যাসলের রক্ষণভাগ। গোলমুখে অদ্ভুত এক বিশৃঙ্খলার মধ্যে বল যখন রোমেরোর সামনে এসে পড়ে, তখন তিনি যা করলেন তা চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতো। পিছনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাইসাইকেল কিক—এমন নিখুঁতভাবে বলটি জালে জড়াল যে গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না।
বাংলাদেশি ফুটবলভক্তরা সঙ্গে সঙ্গে মনে করলেন হামজা চৌধুরীর সেই অদ্ভুত সুন্দর বাইসাইকেল গোলের কথা। জাতীয় স্টেডিয়ামে হামজা করেছিলেন একই ধরনের গোল—বল সামনে ভেসে আসা, লাফিয়ে ওঠা, তারপর এক নিখুঁত বাইসাইকেল কিক। হামজা যেমন ছিলেন স্ট্রাইকার নন, রোমেরোও তেমনি একজন ডিফেন্ডার। অথচ দুজনেই একই ম্যাচে ২ গোল করে নিজেদের দলকে বাঁচিয়েছেন।
ফুটবলে বাইসাইকেল কিক খুবই বিরল ও কঠিন একটি দক্ষতা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, জ়্লাতান ইব্রাহিমোভিচ—এমন মহাতারকারা বছরের পর বছর পর এমন গোল করেন। রোমেরোর গোল এখন থেকে জায়গা করে নেবে সেই তালিকায়। শুধু গোলের সৌন্দর্যের কারণে নয়, বরং তার অসাধারণ টাইমিং, দুঃসাহস ও ম্যাচ বাঁচানোর গুরুত্বের কারণেও।
টটেনহ্যাম এই ম্যাচে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পেল, যা তাদের লিগের অবস্থানে প্রভাব ফেলবে। কিন্তু ম্যাচের মূল গল্প ছিল একটাই—রোমেরোর সেই গোল, যা বাংলাদেশের সঙ্গে এক বিস্ময়কর সংযোগ তৈরি করল। ঢাকার হামজা চৌধুরী এবং লন্ডনের ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো—দুজনেই দুটি ভিন্ন মঞ্চে একই জাদুর পুনরাবৃত্তি ঘটালেন।