খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মশা নিধন কর্মপরিকল্পনার তালিকা আরও একবার কার্যকারিতা ও বাস্তবতার সঙ্গে মিলের অভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তালিকায় ২ নম্বর ওয়ার্ড (মিরপুর) এলাকায় কর্মরত মশা নিধন কর্মীদের নাম, দায়িত্ব ও সময়সূচি প্রকাশ করা হলেও, সেখানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কর্মীর নামও আছে।
তালিকার ৮ নম্বরে নামের সঙ্গে থাকা মশা নিধন কর্মী অফর আলী। তিনি প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার মিরপুরের সাগুফতা আবাসিক এলাকার ১ থেকে ৫ নম্বর সড়ক এবং বেগুনটিলা বস্তিতে কাজ করার কথা থাকলেও, সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায়নি। ওয়েবসাইটে দেওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্বপ্ননগর আবাসিক এলাকায় গিয়ে একটি মোটরসাইকেলে কাজরত কর্মীকে দেখা যায়।
মোটরসাইকেল চালক জানান, তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ডের মশক সুপারভাইজার রকিবুল আলম খান, আর সঙ্গে থাকা কর্মীর নাম শাহ আলম। রকিবুল জানান, অফর আলী প্রায় আড়াই বছর আগে মারা গেছেন, তারপরও তার নাম তালিকায় কেন রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
ডিএনসিসি সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় অন্যান্য অসংগতিও আছে। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানিয়েছেন, “তালিকার তথ্য অনেক দিন হালনাগাদ হয়নি।”
| কর্মী নাম | দায়িত্ব | সময়সীমা | স্থান |
|---|---|---|---|
| শাহ আলম | লার্ভিসাইডিং | ৮:৩০–১১:৩০ সকাল | সাগুফতা ও স্বপ্ননগর এলাকার সড়কসমূহ |
| অপর কর্মী | ফগিং (উড়ন্ত মশা) | ৩:৩০–৫:৩০ বিকেল | বেগুনটিলা, স্বপ্ননগর |
| সুপারভাইজার রকিবুল | তদারকি ও সমন্বয় | সারাদিন | বিভিন্ন নিয়োজিত এলাকা |
সিটি করপোরেশনের কর্মীরা দিনে দুই বেলা মশা নিধনের কাজ করেন। সকালে লার্ভিসাইডিং করা হয়, যেখানে জমে থাকা পানিতে ওষুধ ছিটানো হয়। বিকেলে ফগিং করে ওষুধ মিশানো ধোঁয়া ছড়িয়ে উড়ন্ত মশা মারার কাজ করা হয়।
কর্মীদের কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়রা অসন্তুষ্ট। স্বপ্ননগরের বাসিন্দা আরাফাত হোসেন বলেন, “রাতে মশার যন্ত্রণায় বারান্দায় বসা যায় না। স্প্রে বা কয়েল কাজ করছে না।” সাগুফতার বাসিন্দা জাহিদ হাসান জানান, “বিকেলের পর মশার ঝাঁক আক্রমণ করে। মাগরিবের পর দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হয়।”
উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের কর্মীরা শুধুমাত্র অফিসের সামনে ওষুধ সরঞ্জাম সাজিয়ে ছবি তুলে, প্রকৃত কার্যক্রম সীমিত।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, কিউলেক্স মশার বিস্তার মূলত বর্জ্য ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র ওষুধ ছিটিয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। কার্যকর ড্রেনেজ ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলরের দীর্ঘ অনুপস্থিতি মশা নিধনের তদারকি ও সমন্বয়ে ঘাটতি সৃষ্টি করছে। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, দ্রুত নালা-নর্দমা ও জলাশয় পরিষ্কার করা ও জরুরি লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম শুরু করা ছাড়া বিকল্প নেই।
বর্তমান পরিস্থিতি নির্দেশ করছে, ঢাকার উত্তর এলাকায় মশা নিধন কার্যক্রমের তালিকা ও বাস্তবতা মধ্যে বড় ফাঁক রয়েছে, যা সমন্বয়, তদারকি ও তথ্য হালনাগাদের অভাবে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।