খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের অন্যতম ব্যাটার তাওহিদ হৃদয় তাঁর অনন্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছেন। পুরো সিরিজে ধারাবাহিক ও কার্যকরী পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি প্রতিযোগিতার ‘সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেটার’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই গৌরবময় অর্জনের পুরস্কার হিসেবে তিনি চেরি ব্র্যান্ডের একটি লাল রঙের বিলাসবহুল গাড়ি লাভ করেন। পুরস্কার প্রাপ্তির পর তাওহিদ হৃদয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই লাল গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে একটি আলোকচিত্র ধারণ করে তা প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি তাঁর ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা প্রদান করেন, যা তাঁর অতীত সংগ্রামের ইতিহাসকে সামনে নিয়ে এসেছে।
তাওহিদ হৃদয়ের আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে তাঁর মাতার অবদান ছিল সবচেয়ে দৃঢ় ও অনুপ্রেরণামূলক। শৈশবকালে পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে হৃদয় ঢাকার একটি ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। তবে তৎকালীন সময়ে তাঁদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল এবং এই ব্যয়বহুল প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মতো সামর্থ্য পরিবারের ছিল না। এমতাবস্থায় ছেলের সুপ্ত প্রতিভা ও স্বপ্নের কথা বিবেচনা করে হৃদয়ের মাতা পরিবারের শেষ সম্বল জমি বন্ধক রেখে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে দেন। এই বন্ধকী প্রক্রিয়ার বিষয়টি হৃদয়ের পিতা প্রাথমিকভাবে অবগত ছিলেন না।
| পর্যালোচনার ক্ষেত্র | সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য ও বিবরণ |
| প্রতিপক্ষ ক্রিকেট দল | অস্ট্রেলিয়া |
| সিরিজে ব্যক্তিগত অর্জন | সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেটার |
| প্রাপ্ত পুরস্কারের বিবরণ | চেরি ব্র্যান্ডের একটি লাল রঙের মোটর গাড়ি |
| প্রারম্ভিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র | ঢাকার বনশ্রী অঞ্চলের একটি ক্রিকেট একাডেমি |
| পারিবারিক সংকটের কারণ | একাডেমিতে আর্থিক প্রতারণা ও মাতার ক্যানসার ব্যাধি |
| জীবনের মূল চালিকাশক্তি | জমি বন্ধক রেখে মাতার অর্থ জোগান ও ত্যাগ |
মাতার সংগৃহীত অর্থ নিয়ে তাওহিদ হৃদয় ঢাকার বনশ্রী এলাকার একটি ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হলেও সেখানে তিনি চরম আর্থিক ও মানসিক প্রতারণার সম্মুখীন হন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিপর্যস্ত হয়ে তিনি একপর্যায়ে ক্রিকেট খেলা চিরতরে পরিহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। তবে মাতার কঠোর সংগ্রাম, আর্থিক ত্যাগ এবং তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে হৃদয় নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং পুনরায় ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করেন।
পরবর্তীতে কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি জাতীয় ক্রিকেট দলে নিজের স্থান সুসংহত করেন। একবার জাতীয় দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প বর্জন করে তিনি সম্পূর্ণ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যানসার আক্রান্ত মাতার পাশে অবস্থান করেছিলেন, যা নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক চর্চা হয়েছিল।
কয়েক বছর পূর্বে নিজের জন্মদিনের দিন তাওহিদ হৃদয় প্রথম জানতে পারেন যে তাঁর মাতা ক্যানসার নামক মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মাতার এই দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা ও শারীরিক কষ্টের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি তিনি অত্যন্ত কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। ಈ প্রসঙ্গে পূর্বে প্রকাশিত একটি খোলা চিঠিতে হৃদয় উল্লেখ করেছিলেন যে, তাঁর মাতা যখন হাসপাতালের বিছানায় ক্যানসারের সাথে যুদ্ধ করছিলেন, তখন তিনি নিজে প্রতিমুহূর্তে মাতাকে হারানোর তীব্র আশঙ্কার বিরুদ্ধে মানসিক লড়াই চালিয়ে গেছেন।
তিনি তাঁর মাতাকে জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করেন এবং মাতার সততা ও ধৈর্য থেকে নিজের জীবনের শক্তি আহরণ করেছেন বলে জানান। ইহলৌকিক জীবনে মাতার সুস্থতা এবং তাঁর মুখের অমলিন হাসিই হৃদয়ের জীবনের সর্ববৃহৎ প্রাপ্তি ও চাওয়া। বর্তমানে প্রতিটি প্রার্থনায় মাতার আরোগ্য লাভ ও দীর্ঘায়ু কামনাই এই ক্রিকেটারের প্রধান লক্ষ্য, যা তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লেখনীতে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।