খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
দ্রুত চিকিৎসা, চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যা আর দেশবাসির দোয়ার বদৌলতে গতকাল (২৪ মার্চ) বিকাল থেকেই তামিমের শঙ্কা কাটতে শুরু করেছে। হার্টে যে ব্লক ধরা পড়েছিল, সেখানে রিং বসানো হয়েছিলো। গতকাল দুপুরের পরই জ্ঞান ফেরে তার। মায়ের সঙ্গে কথাও বলেছে।
আজ (২৫ মার্চ) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকালের চেয়ে অনেকটাই উন্নতির দিতে তার অবস্থা। যে শঙ্কার মধ্যে ছিলেন, সেটাও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।
বিকেএসপির পাশেই সাভারের কেপিজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তারকা এই ব্যাটার। জানা গেছে, আজ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হবে তাকে।
কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) দায়িত্বরত চিকিৎসক মনিরুজ্জামান মারুফ বলেছেন, ‘তামিম এখন ভালো আছেন। অল্প অল্প হাঁটাচলা করছেন, হাসিখুশি আছেন। অল্প কিছুক্ষণের জন্য তাকে কেবিনে দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আবার সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে।’
তবে এখনও তিনি ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষনে আছেন। আজ দুপুরে তামিমের কিছু পরীক্ষা করানো হবে। সব ঠিক থাকলে আনা হবে ঢাকায়। এরআগে, তামিমের সুস্থতা কামনা করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের তিনটি ম্যাচ শুরুর আগেই পড়ানো হয়েছে বিশেষ দোয়া।
তামিম ইকবালের সঙ্গে কেপিজে হাসপাতালে অবস্থান করা তার বন্ধু এবং সাংবাদিক মিনহাজউদ্দিন খান জানিয়েছেন, ‘তামিম আগের চেয়ে অনেকটা ভালো বোধ করছেন। রাতে ভালো ঘুমও হয়েছে। ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে তার। একজনের সাহায্য নিয়ে রুমের মধ্যে হাঁটাচলাও করেছেন।’
তামিমের চাচা, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক আকরাম খান বলেছেন, ‘তামিমের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রিং পরানোর কারণে হার্টে রক্তের চলাচলও অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। তার অবস্থা দেখে কেপিজে হাসপাতালের ডাক্তার যদি অনুমতি দেয়, তাহলে আজই আমরা তাকে রিলিজ করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসতে চাই। এখানে এনে পরীক্ষা করতে চাই তার হার্টের ড্যামেজ কতটা হয়েছে। এর চেয়ে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হবে কি না।’
গতকাল বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শাইনপুকুরের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল মোহামেডানের। অধিনায়ক হিসেবে টস করতেও নামেন তিনি। এরপরই অস্বস্তি অনুভব হতে থাকে তার। বুকে ব্যথা হয়। স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চলেও আসেন মাঠে।
কিন্তু এরপরই অবস্থা খারাপ হতে থাকলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে নেয়া হয় কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে। হেলিকপ্টারও রেডি করে রাখা হয় তাকে দ্রুত ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে আনার জন্য। কিন্তু ততক্ষণে তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তাকে আর হেলিকপ্টারে ওঠানোর মত অবস্থা ছিল না। কেপিজে হাসপাতালেই চিকিৎসা করতে হয়।
কেপিজে হাসপাতালেই তার এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি এবং স্টেন্টিং করানো হয়। স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত ব্লক পড়া ধমনীতে রিং পরানো হয়।