রংপুরের তারাগঞ্জে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে বেপরোয়া গতিতে চলা একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে উল্টে গেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বাসের হেলপার ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী বাজারে ব্র্যাক কার্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত হেলপারের নাম এনামুল হক (২৭)। তিনি রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ও পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে তারাগঞ্জ বালাবাড়ি হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে রাখে। বাসটি উল্টে যাওয়ার পর আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে স্থানীয় তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এআর ট্রাভেলসের যাত্রীবাহী বাসটি নীলফামারীর ডোমার থেকে রংপুর শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। সন্ধ্যার পর হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে ইকরচালী বাজার এলাকায় পৌঁছালে বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় সড়কের ডিভাইডারে সজোরে ধাক্কা খেয়ে বাসটি কাত হয়ে উল্টে যায়। এতে ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই বাসের মধ্যে আটকা পড়ে গুরুতর আঘাত পান।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসের যাত্রী আবু নুর জানান, তিনি ডোমার থেকে রংপুরের ধাপ এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসটিতে উঠেছিলেন। তারাগঞ্জ অতিক্রম করার পর থেকেই বাসটির গতি হঠাৎ বেড়ে যায়। ইকরচালী বাজারে প্রবেশের সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে মুহূর্তের মধ্যে বাসটি ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা আহত হন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এদিকে দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়েই তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানান, বাসটি সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা লাগায় ঘটনাস্থলেই হেলপারের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


