তিন খুনের মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের কারাদণ্ড

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাঁদের।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেছেন আদালত।

এ ছাড়া শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে, মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

সম্পত্তির বিরোধ থেকে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান না থাকায় মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি এবং অর্থ নিজেদের দখলে রাখেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই বাড়তে থাকে।

বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান আসেনি। পরে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় আরেকটি সালিশ বৈঠকের দিন নির্ধারণ করা হয়।

তবে নির্ধারিত বৈঠক শুরুর আগেই ঘটে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন। তাঁরা সেখানে পৌঁছালে রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা তাঁদের ওপর হামলা চালান।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের তিনজনেরই মৃত্যু হয়। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, সাক্ষ্য দেন ২১ জন

তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন মো. ফরিদা আক্তার। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম। এতে মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়।

বিচার চলাকালে আদালতে ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, আটজনের যাবজ্জীবন এবং সাতজনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডের পাশাপাশি চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দেওয়া এই রায়ে একই মামলায় আসামিদের অপরাধের দায় ও সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে পৃথক সাজা নির্ধারণ করেছেন আদালত।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।