তিন মামলাতেই জামিন পেলেন তৌহিদ আফ্রিদি, মুক্তিতে নেই বাধা
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর ওয়ারী থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় জামিন পেয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে তার পক্ষে করা জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। তার আইনজীবীর দাবি, এই জামিনের মধ্য দিয়ে তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে থাকা তিনটি মামলাতেই জামিন নিশ্চিত হয়েছে। ফলে কারাগার থেকে তার মুক্তির ক্ষেত্রে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।
আদালতে তৌহিদ আফ্রিদির পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। পরে আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি আগেই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। সর্বশেষ ওয়ারী থানায় করা প্রতারণার মামলায় মঙ্গলবার জামিন পাওয়ায় তিন মামলাতেই তার জামিন সম্পন্ন হয়েছে।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তৌহিদ আফ্রিদিকে কারাগারে রাখার মতো আর কোনো মামলা বা আইনি কারণ নেই। আদালতের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তার মুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
যে মামলায় সর্বশেষ জামিন
ওয়ারী থানায় দায়ের করা মামলাটিতে তৌহিদ আফ্রিদিকে গত ১৫ জুন গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার অভিযোগে একটি অনলাইন প্রতারক চক্রের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, যোগাযোগের পর ওই চক্র বিভিন্ন ধাপে অর্থ বিনিয়োগের জন্য ভুক্তভোগীকে উৎসাহিত করে। শুরুতে অল্প পরিমাণ অর্থ ফেরত দিয়ে তার বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হয়। এতে ভুক্তভোগীর আস্থা তৈরি হলে পরবর্তী সময়ে তাকে আরও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগে রাজি করানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে বিনিয়োগ করা অর্থের সঙ্গে মুনাফা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে। অর্থ ফেরত না পাওয়ার পর সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ওয়ারী থানায় মামলা করেন।
তবে এই মামলায় তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতের চূড়ান্ত রায়ে নির্ধারিত হয়নি। জামিন একটি অন্তর্বর্তীকালীন আইনি ব্যবস্থা; এর অর্থ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলার তদন্ত, অভিযোগের প্রমাণ যাচাই এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম আইন অনুযায়ী চলবে।
আগের মামলাগুলোতেও জামিন
এর আগে গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলার কয়েকটিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। সর্বশেষ ওয়ারী থানার প্রতারণার মামলায় নিম্ন আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তার আইনজীবী জানান, তিনটি মামলাতেই এখন জামিন নিশ্চিত হয়েছে।
তবে জামিনের আদেশের পরও মুক্তির জন্য কারাগার ও সংশ্লিষ্ট আদালতের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলেই তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারবেন বলে আইনজীবী জানিয়েছেন।
তৌহিদ আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার কার্যক্রম নিয়ে দর্শক ও অনুসারীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তার ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার পরিচিতির বাইরে মামলাগুলোই তাকে ঘিরে জনআলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবারের আদালতের আদেশের পর তার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে থাকা তিনটি মামলাতেই জামিনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তার কারামুক্তির পথ এখন উন্মুক্ত। তবে মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকায় অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।