খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
বহুজাতিক ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির (বিএটিবিসি) সিগারেট বিক্রিতে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে কোম্পানিটি ১৪ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকার সিগারেট বিক্রি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ৬৭৮ কোটি টাকা, যা প্রায় ৫ শতাংশের প্রবৃদ্ধি।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়। এরপর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানির আর্থিক ফলাফল সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফাতেও বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। এপ্রিল-জুন সময়ে বিএটিবিসির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২০৪ কোটি টাকা। গত বছরের একই প্রান্তিকে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ১০৭ কোটি টাকা। শতাংশের হিসাবে প্রবৃদ্ধি ১০০ শতাংশেরও বেশি।
তবে ছয় মাসের হিসাব করলে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট বিক্রি হয়েছে ২৩ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। গত বছরের প্রথম ছয় মাসে বিক্রি হয়েছিল ২৩ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে বিক্রি কমেছে ১৯৪ কোটি টাকা। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক মুনাফাতেও। চলতি বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৪১৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসের হিসাবে মুনাফা কমেছে ২ কোটি টাকা।
| সূচক | চলতি বছর | গত বছর | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| দ্বিতীয় প্রান্তিকের সিগারেট বিক্রি | ১৪,৫৬৩ কোটি টাকা | ১৩,৮৮৫ কোটি টাকা | ৬৭৮ কোটি টাকা বৃদ্ধি |
| দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রির প্রবৃদ্ধি | প্রায় ৫ শতাংশ | — | বৃদ্ধি |
| দ্বিতীয় প্রান্তিকের কর-পরবর্তী মুনাফা | ২০৪ কোটি টাকা | ৯৭ কোটি টাকা | ১০৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি |
| প্রথম ছয় মাসের মোট বিক্রি | ২৩,২৮৮ কোটি টাকা | ২৩,৪৮২ কোটি টাকা | ১৯৪ কোটি টাকা হ্রাস |
| প্রথম ছয় মাসের কর-পরবর্তী মুনাফা | ৪১৩ কোটি টাকা | ৪১৫ কোটি টাকা | ২ কোটি টাকা হ্রাস |
| প্রথম ছয় মাসে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট | ১৯,৪৫৭ কোটি টাকা | ১৯,৪০৫ কোটি টাকা | ৫২ কোটি টাকা বৃদ্ধি |
| দ্বিতীয় প্রান্তিকের সময়কাল | এপ্রিল-জুন | এপ্রিল-জুন | একই সময়কাল |
| প্রথমার্ধের সময়কাল | জানুয়ারি-জুন | জানুয়ারি-জুন | একই সময়কাল |
| দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারের দাম বৃদ্ধি | ১ টাকা ৩০ পয়সা | — | বৃদ্ধি |
| লেনদেনের দুই ঘণ্টা পর শেয়ারের দাম | ২২৭ টাকা | — | — |
| হাতবদল হওয়া শেয়ার | প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার | — | — |
| লেনদেনের বাজারমূল্য | ৩ কোটি টাকার বেশি | — | — |
| প্রথম ছয় মাসের সিগারেট বিক্রি | ২৩,২৮৮ কোটি টাকা | ২৩,৪৮২ কোটি টাকা | ১৯৪ কোটি টাকা কম |
কোম্পানির আর্থিক ফল প্রকাশের পর শেয়ারবাজারেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ঢাকার বাজারে লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় বিএটিবিসির প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে ২২৭ টাকায় দাঁড়ায়। এ সময়ে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এসব শেয়ারের মোট লেনদেনমূল্য ছিল ৩ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ আর্থিক প্রতিবেদনে দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ কোম্পানিটির শেয়ারে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
বিএটিবিসির ব্যবসার সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়েরও বড় ধরনের সম্পর্ক রয়েছে। দেশের তামাক ও সিগারেট খাত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব সংগ্রহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৩ হাজার ২৮৮ কোটি টাকার সিগারেট বিক্রির বিপরীতে কোম্পানিটি সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ সরকারকে দিয়েছে ১৯ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই খাতে কোম্পানিটির পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা বেড়েছে ৫২ কোটি টাকা।
বিক্রয়মূল্যের তুলনায় কর ও শুল্কের এই বড় অঙ্ক থেকে বোঝা যায়, সিগারেট ব্যবসায় সরকারের রাজস্ব কাঠামোর প্রভাব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তামাকজাত পণ্যের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট কোম্পানির আর্থিক ফলাফল এবং বাজারদরের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এ খাতের কোম্পানিগুলোর বিক্রি ও মুনাফা বিশ্লেষণে শুধু বিক্রির পরিমাণ নয়, কর ও শুল্কের পরিবর্তন, পণ্যের মূল্য এবং বাজারের চাহিদার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পুরোনো কোম্পানিগুলোর একটি। ১৯৭৭ সালে কোম্পানিটি ঢাকার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত থাকার পাশাপাশি এটি বর্তমানে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রি ও মুনাফা বৃদ্ধির বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে। যদিও ছয় মাসের সামগ্রিক হিসাবে বিক্রি ও মুনাফা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কমেছে, তবু এপ্রিল-জুন সময়ে বিক্রি এবং মুনাফার শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।