খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৮ পিএম
রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। উৎস থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ নেমে গেছে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত যানবাহন, ফিলিং স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ না থাকায় দিনভর দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে নিয়মিতভাবে যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক স্টেশনের সামনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। কোথাও আবার সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের চালকদের অনেকেই ভোর থেকে ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কেউ কেউ মাত্র ২০ থেকে ৫০ টাকার সমপরিমাণ গ্যাস নিতে পারছেন। এতে একদিকে যেমন চালকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রী পরিবহনের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় সড়কের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। একটি গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করায় একই সঙ্গে অন্য যানবাহনের চলাচলেও ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে, কারণ সিএনজি না পাওয়ায় অনেক চালককে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়ও দিনের বড় একটি অংশ গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা। অনেক বাসাবাড়িতে চুলায় আগুন জ্বললেও গ্যাসের চাপ এত কম যে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কিছু এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চুলায় কোনো গ্যাসই পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
বিশেষ করে সকালে ও সন্ধ্যার রান্নার সময়ে গ্যাসের চাপ কম থাকায় পরিবারগুলোর দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে রান্না শেষ করতে না পেরে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছেন। যেসব পরিবার রান্নার জন্য গ্যাসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবন—দুই ক্ষেত্রেই পড়তে পারে। পরিবহন খাতে জ্বালানি সংগ্রহে অতিরিক্ত সময় লাগলে যানবাহনের চলাচল কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী সংকট দেখা দিলে রান্নাবান্নাসহ স্বাভাবিক পারিবারিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাজধানীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যাস সরবরাহের এমন অনিয়মিত পরিস্থিতিতে তাদের দৈনন্দিন জীবন পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কখন গ্যাস থাকবে, আর কখন চাপ কমে যাবে—তা নিশ্চিত না থাকায় রান্না ও যাতায়াতের সময়সূচিও বারবার পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে ফিলিং স্টেশন ও আবাসিক এলাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সংকটের প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। বৃহস্পতিবারের পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট, রাজধানীর গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় চাপ কমে যাওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
মন্তব্য