খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১৮ পিএম
ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে রাব্বি (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পাসপোর্ট অফিস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং পাসপোর্ট অফিসের সামনে একটি কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসকান্দা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় পর্যায়ে এ বিরোধ নিয়ে উত্তেজনাও ছিল বলে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় কয়েকজনের হাতে রামদাসহ বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন রাব্বির ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাসপোর্ট অফিস সড়ক ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
রাব্বি স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। পাসপোর্ট অফিসের সামনে তার কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান থাকায় প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ওই এলাকায় আসা মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো। হঠাৎ সংঘর্ষে তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে একজন নিহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে সেই বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, আগে কোনো সংঘর্ষ বা হামলার ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষ কীভাবে প্রাণঘাতী হামলায় রূপ নেয়—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না ঘটে, সে জন্য স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
নিহতের মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলায় জড়িতদের পরিচয় বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এগিয়ে গেলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য