ইবি সংবাদদাতা
প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীর মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সজিব। অভিযুক্ত সিনিয়র ২০১৯-২০ সেশনের মনিরুল ইসলাম রোহান।
শুক্রবার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে। আহত সজিব বর্তমানে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সজিবের রুমমেট এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী নয়নও আহত হয়েছেন।
জানা যায়, ওই মেসে মাসিক খাবারের হিসাব ৪৫ মিল থেকে কমিয়ে ৪০ করার প্রস্তাব দেওয়া হলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সমর্থন জানালেও রোহান বিরোধিতা করেন। এ নিয়ে সজিবের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। পরে সজিব ও নয়ন রোহানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এসময় সজিব রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও রোহান তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। পরে বাড়িওয়ালা ও অন্যান্য শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সজিবকে হাসপাতালে নেন।
ভুক্তভোগী সজিব অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি পড়ে যাওয়ার পরও রোহান আমাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করেছে। কুষ্টিয়ার লোকাল পাওয়ার দেখিয়ে আমাকে মারধর করেছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।’
নয়ন বলেন, ‘৪০ মিলের পক্ষে ভোট দেওয়ায় রোহান আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। পরে সজিব এগোলে তাকেও এলোপাথাড়ি মারধর করে। এত হিংস্রভাবে মারছিলো যে তাকে থামানো যাচ্ছিল না।’
তবে অভিযুক্ত রোহান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা আমাকে মারতে আসে। পরে আশপাশ থেকে ২০/২৫ জন বাইরের লোক এনে আমার নানীর সামনেই আমাকে মারধর করে। আমার আঙুল ফেটে গেছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি এবং বিষয়টি বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রক্টরকে জানিয়েছি।’
বাড়িওয়ালা তৌহিদ ইকবাল খান বলেন, ‘ছোট্ট একটি মিলের বিষয় নিয়ে দুই পক্ষই হাতাহাতি করেছে। পরে বাইরের ছেলেপেলে এসে পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। ইচ্ছা করলে ভেতরেই বিষয়টির সমাধান করা যেত।’
খবরওয়ালা/এন