খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত বৃহস্পতিবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে মিলিত হয়ে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সক্ষমতা সমন্বয়ের নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি প্রথমবারের মতো চার দেশের মধ্যে এমন একটি উদ্যোগের বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রতিরক্ষাশিল্প ও সামরিক সক্ষমতা একীভূত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়েছে।
তুরস্ক গত বছরের শুরু থেকে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বহুপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি গঠনের প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় এক বছর ধরে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতি চলছে। আঙ্কারা সূত্রের মতে, মিসরকেও এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তুরস্কের লক্ষ্য এই জোটকে ন্যাটোর মতো আনুষ্ঠানিক সামরিক দায়বদ্ধতার কাঠামো নয় বরং একটি ‘নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে তৈরি করা, যা প্রতিরক্ষাশিল্পে সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং সামরিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
চার দেশের সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
| দেশ | প্রতিরক্ষা সক্ষমতা | বিশেষত্ব |
|---|---|---|
| তুরস্ক | আধুনিক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান | প্রতিরক্ষাশিল্পে নিজস্ব প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ |
| পাকিস্তান | পারমাণবিক ক্ষমতা | শক্তিশালী কৌশলগত প্রতিরক্ষা |
| সৌদি আরব | উন্নত প্রযুক্তি কেন্দ্র | অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামো |
| মিসর | বৃহত্তম আরব জনসংখ্যা, আধুনিক সেনাবাহিনী | আঞ্চলিক শক্তিশালী দেশ |
গত ফেব্রুয়ারি মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মিসরে সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তির আওতায় তুর্কি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘মেকানিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন’ মিসরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৩৫ কোটি ডলারের রপ্তানি চুক্তি করেছে। এই চুক্তিতে গোলাবারুদ সরবরাহ, কারখানা স্থাপন এবং স্থানীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চার দেশের এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন ধারার সূচনা করতে পারে। এটি শুধু প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতার উন্নয়ন নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এক ধরনের যৌথ মঞ্চ তৈরি করবে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ এবং উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের কৌশলগত সুবিধা ও মিসরের জনসংখ্যাগত ও সামরিক শক্তি একত্রিত হলে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই বৈঠক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।