খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাপায় মোছা. নওরিন নামের আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ফুটফুটে এই শিশুটির এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে এখন শোকের মাতম চলছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বেগুনবাড়ি ঢাল এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশু নওরিনের বাবা নাজিম মিয়া পেশায় একজন ভ্যানচালক। ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে মেয়ের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অশ্রুসজল চোখে তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, বিকেলে তিনি কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন। ওই সময় বাবার সঙ্গে বাইরে যাওয়ার জন্য জেদ ধরে ছোট নওরিন। মেয়ের আবদার রাখতে নাজিম মিয়া তাঁর স্ত্রী শিরিনা বেগম, মেয়ে নওরিন ও ছোট ছেলে সজীবকে সাথে নিয়ে বাসার বাইরে কিছুটা পথ হাঁটতে বের হন।
পরিবারটি যখন বেগুনবাড়ি ঢাল এলাকা দিয়ে পায়ে হেঁটে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়। অসাবধানতাবশত হঠাৎ করেই বাবার হাত থেকে নিজের হাতটি ছাড়িয়ে নিয়ে একটু সামনে দৌড় দেয় নওরিন। মুহূর্তের মধ্যে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শিশুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয় ও চাপা দিয়ে চলে যায়।
অটোরিকশার ধাক্কায় নওরিন পাকা রাস্তায় ছিটকে পড়ে এবং মাথায় অত্যন্ত গুরুতর আঘাত পায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নিস্তেজ হয়ে পড়া নওরিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তা থেকে উদ্ধার করে তার বাবা-মা দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরবর্তীতে জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সন্ধ্যায় নওরিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নওরিনের মায়ের আহাজারিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগ এবং পুলিশ ক্যাম্পের চারপাশ ভারী হয়ে ওঠে। আড়াই বছরের ছোট্ট সন্তানকে এভাবে চোখের সামনে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা শিরিনা বেগম।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কান্নায় ভেঙে পড়া স্বজনদের শান্ত করার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাকে অবহিত করা হয়েছে। অটোরিকশাটি জব্দ করা বা এর চালককে আটক করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় থানা পুলিশ। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।